রিফাত হত্যা: বরিশাল থেকে আটক ৪জনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে

রিফাত হত্যা

প্রকাশিত: ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৯, ২০১৯
বরিশাল নদীবন্দর থেকে চার যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

বরগুনার আলোচিত রিফাত হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে বরিশাল থেকে আটক ৪জনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বরিশাল থেকে ঢাকাগামী একটি লঞ্চ থেকে সন্দেহজনকভাবে বরগুনার ওই ৪ যুবককে আটক করেছিলো বরিশাল পুলিশ। রিফাত হত্যার খুনিরা যাতে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য হাইকোর্ট থেকে পুলিশের আইজিপিকে সারাদেশে রেড এলার্ট নির্দেশ হলে সারাদেশে সতর্কতা জারি করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতে তাদের আটক করা হয়।

পরে বরগুনা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে তাদের পরিবারের সদস্যদের থানা ডেকে পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে রিফাত হত্যায় জড়িত নয় জেনে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

কোতয়ালী মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম জানান, আটককৃতদের গ্রামের বাড়ি বরগুনার বেতাগী উপজেলায়। তারা সবাই বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। তাদের এক বন্ধুকে ঢাকায় যাওয়ার পথে এগিয়ে দিতে নদীবন্দরে গিয়েছিলেন তারা। ওসি জানান, ৪ যুবককে আটকের পর তাদের গ্রামের বাড়িতে বরগুনা পুলিশের সহায়তায় খোঁজ খবর নেওয়া হয়েছে। তাদের পরিবারকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু ওই ঘটনায় তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (সদর) হাবিবুর রহমান খান বলেন, ওই ৪ যুবককে আটকের পর বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা ছাড়াও ভিডিও ফুটেজের চেহারার সঙ্গে তাদের চেহারা মিলিয়ে দেখা হয়েছে। এছাড়া বরগুনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আশরাফ নিজে উপস্থিত থেকে তাদের যাচাই-বাছাই করেন। কিন্তু রিফাত হত্যায় তাদের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় ওই রাতেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

গত বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে রিফাত নেওয়াজ শরীফ (২২) নামের ওই যুবককে কুপিয়ে জখম করে স্ত্রী আয়শা আক্তার মিন্নির সাবেক স্বামী দাবিকারী নয়ন বন্ড ও তার সহযোগীরা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় রিফাতকে প্রথমে বরগুনা সদর হাসপাতাল ও পরে বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল (শেবাচিম) কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এঘটনায় বৃহস্পতিবার রিফাতের বাবা মো. আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নামোল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনকে আসামি করে বরগুনা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় চন্দন ও হাসানসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে গ্রেফতার অন্য আসামির নাম বলেনি পুলিশ। মামলার অন্য আসামিরা হলো নয়ন, রিফাত, রিশান, মো. মুসা, রাব্বী আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রায়হান, গ্রেফতার), রিফাত, অলি ও টিকটক হৃদয়। এরা সবাই ছাত্রলীগ নামধারী এবং ছাত্রলীগ পরিচয়ে তারা পুরো বরগুনা দাপিয়ে বেড়ায় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে উল্লিখিতরা ছাত্রলীগের কেউ নয় এবং ছাত্রলীগের কোনো পর্যায়ে তাদের নাম নেই বলে দাবি করেছেন বরগুনা জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রুবায়েত আদনান অনিক।

/এসএস

মন্তব্য করুন