
স্ত্রীর সামনে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার সকালে স্ত্রীর সামনে স্বামী রিফাতকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে দূবৃত্তরা। বাধা দিতে গিয়ে আহত হয় স্ত্রী আয়শা আক্তার মিন্নি সহ এক যুবক। এঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ঘটনাটি হাইকোর্টের নজরে আনলে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে বরগুনা জেলার ডিসি-এসপিদের পদক্ষেপ জানতে চেয়ে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। আদালত ওই জেলার ডিসি ও পুলিশ সুপারের পদক্ষেপ কি জানতে চেয়েছে দুপুর ২টার মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাসারকে বরগুনার ডিসি ও এসপির কাছ থেকে এ বিষয়ে জেনে হাইকোর্টকে জানাতে বলেছে।
এছাড়াও হত্যাকারীরা যেন দেশ ত্যাগ করতে না পারে সে বিষয়ে দেশের সব থানায় অ্যালার্ট জারি করতে বলেছেন হাইকোর্ট।পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
বুধবার সকালে বরগুনার কলেজ রোড এলাকার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর সারাদেশে তুমুল সমালোচনা হয়। পরদিন (আজ) বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এ হত্যাকাণ্ডের সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস সেসব প্রতিবেদন আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে হাইকোর্টের নজরে আনেন।
গতকালের ঘটনায় নিহত রিফাত শরীফ (২৩) সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের বড় লবনগোলা গ্রামের দুলাল শরীফের ছেলে। মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছিলেন রিফাত। হামলার পর গুরুতর অবস্থায় রিফাতকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
জানা গেছে, রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার ভিডিওতে যে দুই যুবককে দেখা যায় তাদের একজনের নাম নয়ন বন্ড এবং আরেকজন রিফাত ফরাজী। তারা ছিনতাই ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্মে জড়িত। এসব ঘটনায় তারা একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। এ ঘটনায় ১২ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন। এ ঘটনায় চন্দন নামের এক যুবককে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট খবর:
রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ১
/এসএস

