সুনামগঞ্জ ১ আসনের ইসলামী আন্দোলন ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের সম্পদের বিবরণ প্রকাশ পেয়েছে

প্রকাশিত: ১০:০২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২, ২০২৬

এম সালমান আহমদ সুজন, (সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি)

সুনামগঞ্জ-১ (জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর) আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের আয়, সম্পদ ও দায়দেনার বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ পেয়েছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আলহাজ্ব অধ্যাপক ডাঃ রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বর্তমানে একজন ব্যবসায়ী। তিনি পূর্বে চিকিৎসা পেশা ও শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। হলফনামা অনুযায়ী, কৃষি খাত থেকে তার বার্ষিক আয় ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা। বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ও অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি থেকে ভাড়া বাবদ আয় ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৭২০ টাকা এবং ব্যবসা থেকে আয় ৮ হাজার ৬৮২ টাকা।

তার নির্ভরশীলদের আয় হিসেবে কৃষি খাত থেকে ৭২ হাজার টাকা, ভাড়া বাবদ ১০ লাখ ৪৪ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে ৪ লাখ ১০ হাজার ৭৭১ টাকা এবং চিকিৎসা পেশা থেকে ১৩ লাখ ২৬ হাজার ২৩৩ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার নিজ নামে রয়েছে নগদ অর্থ ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬২১ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ২ লাখ ৪৭ হাজার ২৫ টাকা, শেয়ার ও বন্ডে বিনিয়োগ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যানবাহন ২৫ লাখ টাকা, স্বর্ণ ৯০ হাজার টাকা, ইলেকট্রনিক পণ্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ও আসবাবপত্র ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। অর্জনকালীন সময়ে এসব সম্পদের মূল্য ছিল ৩৪ লাখ ৮১ হাজার ৬৪৬ টাকা, যা বর্তমানে আনুমানিক ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

স্বামী/স্ত্রীর নামে রয়েছে নগদ অর্থ ৮১ লাখ ১৪ হাজার ৬৬২ টাকা, ব্যাংকে জমা ৫৮ লাখ ১৩ হাজার ২৮৫ টাকা, শেয়ার ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ৫০ লাখ টাকা, যানবাহন ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকা, স্বর্ণ, ইলেকট্রনিক পণ্য ও আসবাবপত্রসহ মোট সম্পদের বর্তমান আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে তার নিজ নামে রয়েছে ০.৭২ শতাংশ জমি, ৫.২৯ একর অকৃষি জমি (উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত) ও বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট। এসবের বর্তমান আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। এছাড়া স্ত্রীর নামে ৩৪ শতাংশ জমি, অকৃষি জমি ও প্লট এবং বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট মিলিয়ে বর্তমান আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, সাবেক সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনিসুল হক সুনামগঞ্জ-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী। তিনি একজন ব্যবসায়ী। তার বার্ষিক আয় হিসেবে ভাড়া বাবদ ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা এবং ব্যবসা থেকে আয় দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৭২ লাখ ৪৭ হাজার ৮২৯ টাকা ৯৫ পয়সা। নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় ৭ লাখ ৫ হাজার ১২১ টাকা।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার নিজ নামে রয়েছে নগদ অর্থ ১ লাখ টাকা, ব্যাংকে জমা ৫৩ লাখ ৪৭ হাজার ৩৬২ টাকা, স্পিডবোট ও মোটরসাইকেল, স্বর্ণ, ইলেকট্রনিক পণ্য ও আসবাবপত্রসহ সম্পদ। উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তির ব্যবসায় বিনিয়োগসহ তার অস্থাবর সম্পদের বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৫ কোটি ১৫ লাখ ৮৮ হাজার ৬১৪ টাকা।

স্বামী/স্ত্রীর নামে নগদ অর্থ, ব্যাংক জমা, সঞ্চয়পত্র, স্বর্ণ ও অন্যান্য সম্পদের বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৭৬ লাখ ৮১ হাজার ৩১৩ টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে তার নিজ নামে রয়েছে ৫.২৭ একর কৃষি জমি, ১৯.৪০ একর অকৃষি জমি, পাকা ও সেমিপাকা ভবন এবং বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট। এসবের বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৪ কোটি ৯৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকা।

এছাড়া স্বামী/স্ত্রীর নামে ৪.০৩ একর কৃষি জমি রয়েছে, যার বর্তমান মূল্য ১২ লাখ ৮৯ হাজার ৬৪০ টাকা। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি থেকে তার নেওয়া ঋণের পরিমাণ ২ কোটি ৩০ লাখ ৯১ হাজার ৪৪০ টাকা বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন