মুফতি ফয়জুল করীমের আসনে জামায়াতের প্রার্থী প্রত্যাহার, বিএনপিকে নীরব সমর্থনের গুঞ্জন

প্রকাশিত: ১১:০৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৯, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের নির্বাচনি আসনে প্রার্থী প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষ করে যে আসনকে কেন্দ্র করে একসময় সমঝোতার দ্বন্দ্বের সূচনা হয়েছিল এবং যে আসন কোনোভাবেই ছাড়তে রাজি ছিল না জামায়াতে ইসলামী, সেই আসনেই মুফতি ফয়জুল করীমের বিপক্ষে হঠাৎ প্রার্থী প্রত্যাহারের ঘটনায় অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। রাজনৈতিক মহলে বিষয়টিকে ‘হঠাৎ মোড়’ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই আসনে ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতার প্রার্থিতাকে সম্মান জানিয়ে তারা কোনো প্রার্থী রাখছে না। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশের মতে, বিষয়টি কেবল সৌজন্যমূলক সিদ্ধান্ত নয়; বরং এর পেছনে বিএনপির প্রতি নীরব সমর্থনের একটি কৌশলগত বার্তা থাকতে পারে।

স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সংশ্লিষ্ট আসনে বিএনপি শক্ত অবস্থানে থাকলেও জামায়াত প্রার্থী প্রত্যাহারের ফলে ভোটের সমীকরণ নতুন করে সাজানো হচ্ছে। এতে কার পক্ষে সুবিধা তৈরি হবে, তা নিয়েই এখন আলোচনা তুঙ্গে।

এদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, সামগ্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াতের সাম্প্রতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। একদিকে সমঝোতা ভেঙে আলাদা পথে হাঁটার ঘোষণা, অন্যদিকে নির্দিষ্ট আসনে প্রার্থী প্রত্যাহার—এই দ্বৈত অবস্থান রাজনৈতিক বিভ্রান্তি বাড়াচ্ছে বলেও মত বিশ্লেষকদের।

তবে জামায়াতে ইসলামী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিকে কোনো ধরনের সমর্থনের কথা স্বীকার করেনি। দলটির দাবি, সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বাস্তবতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে নেওয়া।

নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই এই সিদ্ধান্ত ইসলামপন্থী রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে—সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

মন্তব্য করুন