
বরগুনার রিফাত শরীফ ও আয়েশা আক্তারের বিবাহ হয় প্রায় দুই মাস আগে। এক তরুণ বিয়ের পর পরই দাবি করে সদ্য বিবাহিত আয়েশা আক্তার তার সাবেক স্ত্রী। এ নিয়ে ঐ তরুণ ও আয়েশার স্বামীর মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে আয়েশাকে বউ হিসেবে দাবি করা নয়ন নামের ছেলেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি পোস্ট করে। বাড়ে রিফাতের সঙ্গে নয়নের দ্বন্দ্ব। আয়েশাকে উত্ত্যক্ত করার কারণে রিফাত তাকে কলেজে নিয়ে যেত।
দ্বন্দ্বের জেরে বুধবার (২৬ জুন) সকালে নয়ন তার দুই সহযোগীকে নিয়ে রিফাতের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। আশেপাশে মানুষ থাকলেও রিফাতকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার। আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েও হামলা থেকে স্বামীকে রক্ষা করতে পারেননি তিনি। নৃশংস হামলায় নিহত হন রিফাত শরীফ (২২)। বুধবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০ টার দিকে বরগুনার কলেজ সড়কের ক্যলিক্স কিন্ডার গার্টেনের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত রিফাত শরীফ সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের দুলাল শরীফের ছেলে। অভিযুক্তদের মধ্যে নয়ন ও তার এক সহযোগী রিফাত ফরাজীর নাম জানা গেছে। জানা যায়, বুধবার সকালে সাড়ে ১০ টার দিকে রিফাত তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকাকে বরগুনা সরকারি কলেজে নিয়ে যান। কলেজ থেকে ফেরার পথে মূল ফটকের সামনে নয়ন, রিফাত ফরাজীসহ আরও দুই যুবক অতর্কিতে রিফাতের ওপর হামলা চালায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়েএলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে।
রিফাতের স্ত্রী আয়েশা দুর্বৃত্তদের থামানোর চেষ্টা করলেও কিছুতেই হামলাকারীদের থামতে পারেননি। তারা রিফাতকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন ও আয়েশা রিফাতকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। জানা যাছে, রিফাতের বুকে, ঘাড়ে ও পিঠে গুরুতর আঘাত থাকায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সেখান থেকে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বরিশাল শের-ই-বাংলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন রিফাত। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ব্যাপারে বরগুনার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবির মোহাম্মাদ হোসেন বলেন, অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে তাদের বাসাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। শীঘ্রই অভিযুক্তদের আটক করা হবে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
আইএ/পাবলিক ভয়েস

