
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ও আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে সাবেক বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর। অর্থাৎ আদালত স্বীকৃত ও দণ্ডপ্রাপ্ত রাজাকার ছিলেন সাকা চৌধুরী। যার সর্বোচ্চ সাজা কার্যকরও হয়েছে। অথচ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় নেই চিহ্নিত এই রাজাকারের নাম।
অন্যদিকে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নাম রাজাকারের তালিকা থেকে বাদ পড়লেও এই তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে তার চাচা ফজলুল কবির চৌধুরীর নাম। যিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। এ নিয়ে চট্টগ্রামবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
একাত্তরে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীকে সহায়তাকারী রাজাকার, আলবদর ও আল শামসের তালিকা প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ১৫ ডিসেম্বর প্রথম দফায় ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকারের নাম প্রকাশ করা হয়। প্রকাশের পর থেকেই শুরু হয়েছে এর তীব্র সমালোচনা। কেননা এই তালিকায় বহু মুক্তিযোদ্ধার নামও যুক্ত করা হয়েছে। তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুর নামসহ একাত্তরে রণাঙ্গনে যুদ্ধে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের।
রাজাকারের এই তালিকায় একদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের রাখা হয়েছে অন্যদিকে বাদ দেওয়া হয়েছে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকারদের নাম। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে প্রসিকিউশনে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর নামও নেই এই তালিকায়। অথচ আছে এই প্রসিকিউশনের আইজীবি, ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুর নাম।
আদালতে যুদ্ধাপরাধ প্রমাণ হওয়ায় বিএনপির তৎকালীন স্থায়ী কমিটির এই সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় ২০১৫ সালের নভেম্বরে। তার বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। কিন্তু সরকারের প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় তার নাম নেই। একইভাবে নোয়াখালীর ২৫ রাজাকারের যে তালিকা প্রকাশ হয়েছে, তাতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া রাজাকার আমির আলীর নামও ওঠেনি।
উল্লেখ্য, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বাবা ফজলুল কাদের চৌধুরীর আপন ভাই ছিলেন ফজলুল কবির চৌধুরী। যিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তার ছেলে এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী রাউজান আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচিত এমপি। মুক্তিযোদ্ধা দাদার নাম রাজাকারের তালিকায় আসায় এমপি পুত্র ফারাজ করিম চৌধুরী সামাজিক মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে মন্ত্রীর প্রতি প্রশ্ন ছুড়েছেন।
/এসএস

