ঢাকায় বিএনপি-পুলিশের সংঘর্ষ; কাদেরের মানসিক সমস্যা আছে: ফখরুল

প্রকাশিত: ৪:০৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০১৯

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঢাকায় সুপ্রিম কোর্টের সামনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের মিছিলে নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরে মানসিক সমস্যা আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে হাইকোর্টের সামনে সড়কে বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দল। এসময় পুলিশের সাথে তাদের সংঘর্ষ হয়। বিক্ষুব্ধ নেতাকমীরা এসময় বেশকিছু গাড়ী ভাঙচুর করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর দেড়টার দিকে মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের নেতাকর্মীরা জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকা থেকে সংগঠিত হয়ে সুপ্রিম কোর্টের সামনে এসে অবস্থান নেন। সেখানে সড়কে বিক্ষোভ শুরু করেন।

এ সময় তারা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে পুলিশ এসে বাধা দিলে উভয়পক্ষে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে বিএনপি নেতাকর্মীরা ওই এলাকায় কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে।

মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এসময় তিনি ‘অনুমতি না নিয়ে সভা-সমাবেশ করার সাহস, শক্তি বা সক্ষমতা বিএনপির নেই’ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের এমন বক্তব্যের জবাবে বলেন, ওবায়দুল কাদেরের মানসিক সমস্যা রয়েছে।

ফখরুল বলেন, তারা এখন নিজেদের প্রভু ভাবতে শুরু করেছেন। রাষ্ট্রের প্রভু তারা, এটিই তাদের সমস্যা হয়ে গেছে। সবকিছু তারা তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান। ভিন্ন একটি রাজনৈতিক দল কীভাবে চলবে এটিও তারা নিয়ন্ত্রণ করতে চান। অথচ সংবিধানে খুব পরিষ্কারভাবে সব দলকে সভা-সমাবেশ ও প্রতিবাদ করার অধিকার দেয়া আছে।

আওয়ামী লীগ আগেও প্রভুত্ব দেখিয়েছে, মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগ বাকশাল তৈরি করে প্রভু বনে গিয়েছিল। আবার এখন তো ১০ বছর ধরে দেশে প্রভুত্ব করছে। এখন তারা পাকাপোক্ত প্রভু হিসেবে ক্ষমতায় থাকতে চান; যেটি তাদের মানসিকতার সমস্যা। গণতান্ত্রিক চেতনা তাদের মধ্যে নেই। তারা নিজেদের রাজা-বাদশা ও প্রভু ভাবতে শুরু করেছেন।

নতুন নির্বাচন দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। কারণ তারা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার নয়। তাই অবিলম্বে এই নির্বাচনের ফল বাতিল করে দিয়ে সরকারের পদত্যাগ করে একটি নিরপেক্ষ সরকার গঠন করে পুনরায় নির্বাচন করা উচিত।

বিএনপির সভা-সমাবেশে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে তালবাহানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা সভা-সমাবেশ করার অনুমতি চাই না, আমরা অবগত করি। সভা-সমাবেশ আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সভা করলে পিডব্লিউডি, সড়কে করলে পুলিশের কাছে অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু এই সরকার যেটি করছে, সেটি গ্রাম্য মোড়লের কায়দায়। সরকার সভা-সমাবেশের অনুমতি দিতে তালবাহানা করে থাকে। সভা-সমাবেশের দুই ঘণ্টা আগে অনুমতি দিয়ে থাকে। এতে সমাবেশ সফলভাবে করা খুব কঠিন।

এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সহসভাপতি নূরে সাহাদাত স্বজন, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নূর করিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন