ধুলায় দূষিত টেকনাফ; হাজারও মানুষের দুর্ভোগ

প্রকাশিত: ১:৪১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০১৯

এম.কলিম উল্লাহ, ককসবাজার প্রতিনিধি: শহীদ এটিএম জাফর আলম সড়কের চলমান সংস্কার কাজের ধুলাবালিতে  ছাত্র শিক্ষক ও পথচারীসহ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষজোন।

সড়ক সংস্কার কাজে ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সড়কে পর্যাপ্ত পরিমান পানি না ছিটানোর কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। এতে করে পরিবেশ দূষণসহ ভুক্তভোগী মানুষের শ্বাস কষ্ট, বিভিন্ন রোগ ব্যাধি সৃষ্টি, যান বা মানুষ চলাচলে সমস্যা এবং সড়ক সংলগ্ন প্রায় ৪০-৫০টি বাজার ব্যবসায়ীদের প্রতিদিনের ব্যবসা বানিজ্যের সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

কক্সবাজার সরকারী কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র মুহিব্বুল্লাহ। প্রতিদিন এ রাস্তাটি কয়েক বার ব্যবহার করতে হয় তাকে। তিনি বলেন, সকালে কলেজে যাওয়ার পথে ধুলাবালিতে ঢেকে যায় শরীর। ঘরে ফিরে মনে হয় যেন মাঠে কাজ করে আসছি।

ধুলাবালির স্বাস্থ্যের ক্ষতি বিষয় জানতে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিকল্পনা পরিচালক ড. আব্দুল মান্নানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ধুলাবালি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। সবার ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সমস্যা না করলেও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা করতে পারে। সাধারণত যেসব ধুলাবালি খালি চোখে দেখা যায় না, সেগুলো বেশি ক্ষতিকর। অনেক ক্ষেত্রে সামান্য পরিমাণ ধুলাও তাৎক্ষণিক সমস্যা দেখা দেয়। যেমন চোখ জ্বালাপোড়া, কাশি, হাঁচি, অ্যালার্জিক রাইনাইটিস, হাঁপানি ইত্যাদি। আবার যাঁদের আগে থেকেই ফুসফুসের সমস্যা আছে, তাদের অল্পতেই সমস্যা জটিল করে তুলতে পারে। ধুলাবালি কারণে সাধারণত শিশু, বৃদ্ধ ও যাদের ডাস্ট অ্যালার্জি আছে, তারা বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন।

পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী এক ফেইসবুক স্টাটাসে বলেন, টেকনাফ সড়ক পুনঃনির্মানে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত। এ জন্য সরকারকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। কিন্তু নিয়োগকৃত টিকাদারকে ঘৃনা করতে বাধ্য হচ্ছি। কারণ, তাদের অবহেলা ও অদক্ষতার জন্য কোর্টবাজার হতে পালংখালী পর্যন্ত প্রতিদিন যান চলাচল কারীদের দুর্ভোগের শেষ নাই। নির্মানাধীন ব্যস্ততম এ সড়কে পানি ছিটানোর নিয়ম না থাকলেও সড়ক বিভাগের উদ্যোগে পর্যাপ্ত পানি ছিঠানো প্রয়োজন। তাছাড়া মাইলের পর মাইল কার্পেটিং উপড়ানো সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচলে শরীরের ব্যাথায় রাত্রের ঘুমে সমস্যা হচ্ছে।

বায়ুদূষণে সর্বোচ্চ রেকর্ডের পথে এখন উখিয়া। নানা রোগে আক্রান্তের আগে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন ডাক্তার। বায়ুদূষণে আক্রান্তের হাত থেকে বাঁচতে সওজ বিভাগ ও প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন উখিয়াবাসী।

আই.এ/

মন্তব্য করুন