
মুহাম্মাদ একরামুল হক, ভোলা প্রতিনিধি: ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় যৌতুক দিতে অস্বীকার করায় মোসা. আসমা বেগম নামের এক গৃহবধুকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন করে রক্তাক্ত করেছে তার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন। নির্যাতন শেষে তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে একটি রুমের মধ্যে আটকে রাখে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার ভোরে গৃহবধুর স্বামী মো. সাহাবুদ্দিন ও শ্বশুর মো. আনোয়ার উল্যাহকে আটক করেছে পুলিশ। উপজেলার দেউলা ইউনিয়নের চর টিটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আসমা বেগমের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ বছর পূর্বে মো. শাহাবুদ্দিনের সাথে বিয়ে হয় আসমা বেগমের। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বামী শাহাবুদ্দিন তার কাছে ৩ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে। আসমা বেগম টাকা দিতে অস্বিকৃতি জানালে তার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে বিভিন্ন সময়ে মারধর করতে থাকে। এক পর্যায়ে মেয়ের সুখের কথা চিন্ত করে আসমা বেগমের বাবা মেয়ে জামাইকে এক লক্ষ টাকা দেয়।
এই টাকা পেয়ে শাহবুদ্দিন ও তার পরিবার কিছু দিন শান্ত থাকলেও গত কয়েক দিন থেকে ২ লক্ষ টাকার জন্য আসমা বেগম ও তার পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। এ টাকা না দিলে শাহাবুদ্দিন আসমা বেগমকে তালাক দিয়ে দ্বিতীয় বিবাহ করার হুমকি দেয়।
সর্বশেষ গত (০১ সেপ্টেম্বর) রবিবার সকাল ১০টার দিকে স্বামী শাহাবুদ্দিন, শ্বশুর আনোয়ার উল্যাহ ও শ্বশুড়ী নুর জাহান বেগম মিলে আসমা বেগমকে তার বাবার কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা এনে দিতে বলে। সে টাকা দিতে অস্বিকৃতি জানালে তারা সবাই মিলে তাকে কাটাযুক্ত লাঠি দিয়ে এলাপাথারি মারধর করতে থাকে। পরে তাকে শিকল দিয়ে হাত পা তালাবদ্ধ করে একটি রুমের মধ্যে আটকে রাখে।
সোমবার সকালে তারা হাতের শিকল খুলে দিলে আসমা বেগম পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এ অবস্থায় আসমা বেগম তার বাবা ও ভাইকে ফোন করলে তারা এসে আসমাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে আসমা বেগম চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় সোমবার রাতে আসমা বেগম বাদী হয়ে স্বামী মো. শাহাবুদ্দিন, শ্বশুর মো. আনোয়ার উল্যাহ ও শ্বশুড়ী নুর জাহান বেগমকে আসামী করে বোরহানউদ্দিন থানায় মামলা দায়ের করেন।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহা. এনামুল হক জানান, এ ঘটনায় গৃহবধু বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে। ইতোমধ্যে মামলার ১নং ও ২নং আসামীকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
আই.এ/পাবলিক ভয়েস

