মিন্নিকে ওসি মোয়াজ্জেমের আইনজীবী আইনি সহায়তা দিতে চান

প্রকাশিত: ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০১৯

বরগুনা সদরে প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা মামলায় গ্রেফতার তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির পক্ষে বুধবার আদালতে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। পরে আদালত তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ খবর শুনে মিন্নির পক্ষে মামলা পরিচালনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ফেনীতে মাদরাসাছাত্রী নুসরাত হত্যায় গ্রেফতার সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ।

তিনি মিন্নির পক্ষে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিতে ইচ্ছুক বলে জানিয়েছেন। ফারুক আহম্মেদ বলেন, মিন্নির পরিবার চাইলে তার পক্ষে ফারুক অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস দাঁড়াতে চায়। ফারুক অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস সব সময় নির্যাতিত, অসহায় ও অসচ্ছল পরিবারের পক্ষে ন্যায়বিচারের জন্য মামলা পরিচালনা করে থাকে।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা ঢাকা থেকে মিন্নির জন্য মামলা পরিচালনা করব। এ জন্য মিন্নির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। আমরা তাকে লিগ্যাল এইড (বিনা পয়সায় মামলা পরিচালনা) দেব।’ গত বুধবার বিকালে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতে হাজির করা হয় রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী তার স্ত্রী মিন্নিকে।

এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি সঞ্জিব দাস। তিনি আদালতকে জানান, এ ঘটনায় আইনজীবীদের কেউ আসামিদের পক্ষে নিয়োগ না হওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে মিন্নির পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

মিন্নির পক্ষে আদালতে আইনজীবী না থাকার বিষয়ে তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, ‘আমি তিন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছিলাম, তাদের দাঁড়ানোর কথা ছিল, আমার মনে হয় প্রতিপক্ষের ভয়ে তারা আমার মেয়ের পক্ষে দাঁড়াননি।’ কোন প্রতিপক্ষের কারণে আইনজীবী দাঁড়াননি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোন প্রতিপক্ষ সেটি আপনারাই বুঝে নিন।

এর আগে রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বরগুনা জেলা পুলিশের কার্যালয়ে নেওয়া নেওয়া হয়। গত মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে বরগুনা পৌরসভার মাইট এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে পুলিশ কার্যালয়ে নেওয়া হয়। মিন্নির বাবাও সঙ্গে ছিলেন।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে খুনে যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেফতার করে বরগুনা পুলিশ মঙ্গলবার রাত ৯ টায় মিন্নিকে গ্রেফতার করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বরগুনা পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন।

এর পর মিন্নিকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। নয়ন বন্ডের বাড়িতে বসেই স্বামী রিফাতকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মিন্নি- এমনটাই দাবি করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির। গত বুধবার গণমাধ্যমকে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজীর সঙ্গে মিন্নি পরিকল্পিতভাবে রিফাতকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পুলিশ সুপার প্রথমে মিন্নির স্বীকারোক্তির কথা দাবি করলেও পরে তিনি দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

আইএ/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন