
ইসমাঈল আযহার
পাবলিক ভয়েস
কলকাতার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথা দিয়েও কথা রাখেননি, মেলেনি বেসরকারি মাদ্রাসার সরকারি অনুমোদন। এই কারণে গতকাল মঙ্গলবার ধর্মতলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন আয়োজন করে রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষকরা। দাবি আদায় করেই ফিরবে করেই তবে ফিরতে চাইলেও পুলিশের বাঁধায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে পারেননি শিক্ষকরা।
কলকাতায় মমতা সরকার ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির মধ্যে একটি ছিল ১০ হাজার বেসরকারি মাদ্রাসাকে সরকারি অনুমোদন করা হবে। অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ৯ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও তা পূরণের কোন লক্ষণই দেখতে পাচ্ছেন না মাদ্রাসা শিক্ষকরা।
নিজেদের অধিকার আদায়ের উদ্দেশ্যে সেই ২০১২ সাল থেকে বহুবার তারা নানা জায়গায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করলেও আদতে কোন সুরাহা হয়নি। বিক্ষোভ, অবস্থান, অনশন করলেও শুধু প্রতিশ্রুতির ওপর আবারও দেওয়া হয়েছে প্রতিশ্রুতি। তাই আবারও তারা মঙ্গলবার তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের দাবি নিয়ে ধর্মতলায় বিক্ষোভর ডাক দিয়েছিলেন।
রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষকদের বিক্ষোভ পরিকল্পনার কথা জানতে পেরে আগেই তা বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। ওয়েস্ট বেঙ্গল রেকগনাইজড আন-এডেড মাদ্রাসা টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা এই সভায় যোগদান করার পূর্বেই পুলিশের হাতে আটক হন শতাধিক মাদ্রাসা শিক্ষক।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই সেখানে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। সেই সঙ্গে আশেপাশের এলাকায় কোথাও কোনো জমায়েতে অবস্থানে যোগ দেওয়ার কথা শুনলেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের তৎপরতায় অবস্থানের আগেই ভন্ডুল হয়ে যায় এই প্রতিবাদী বিক্ষোভ।
মঙ্গলবারের কর্মসূচির বিষয়ে আন-এডেড মাদ্রাসা টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের তরফে কাজি মিরাজুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, ‘মমতা দিদি ভালো করেই জানেন আমাদের দাবি-দাওয়া কি আছে। এটা তো আর আজকের বিষয় নয়। এ ঘটনা দিদি আসার সময় থেকেই। দিদি বলেছিলেন, দশ হাজার প্রতিষ্ঠান দেব। তার কথায় বিশ্বাস করেই আমরা তাকে মুখ্যমন্ত্রী বানালাম।
কিন্তু সুযোগ সুবিধার প্রতিশ্রুতি কোথায় গেল? ১০ হাজার তো অনেক দূরের কথা, অনেক অনুনয় বিনয় করে মাত্র ২৩৫ টি মাদ্রাসা দিয়েছেন মাত্র। এগুলো একদমই ঠিক করছেন না দিদি। এরকম চলতে থাকলে, আগামী নির্বাচনে আমাদের থেকে ভোটের আশা ত্যাগ করতে পারেন দিদি’। সূত্র ভারতীয় গণমাধ্যম।
আই.এ/

