গত দু’দিন ধরে স্থগিত আফগান-তালেবান শান্তি আলোচনা

প্রকাশিত: ৭:৫৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০

ইসমাঈল আযহার
পাবলিক ভয়েস

কাতারের রাজধানী দোহায় আফগান সরকার ও তালেবান শান্তি আলোচনার বিষয়ে গত দুদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ স্থগিত রয়েছে। এ বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল আনুষ্ঠানিক আলোচনা একটি সমঝোতায় পৌঁছানো।

তালেবানরা আফগানিস্তানের শান্তি আলোচনার ভিত্তিতে ‘মাদার ডিল’ হিসাবে মার্কিন-তালেবান চুক্তির স্বীকৃতি এবং আলোচনার একমাত্র ধর্মীয় আইনী নির্দেশিকা হিসাবে হানাফি ফিকহকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি করেছে।

প্রতিবেদনগুলো অনুযায়ী, আফগান সরকার তালেবানের দাবিগুলোর বিকল্প প্রস্তাব করেছে।

তারা প্রস্তাব দিয়েছে- কোনও ধর্মীয় সমস্যা উত্থাপিত হলে এটি হানাফি ফিকহের ওপর ভিত্তিতে সমাধান করা হতে পারে। শিয়া ব্যক্তিগত অবস্থান আইনকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকেও ধর্মীয় আইনশাসন বেছে নেওয়া উচিত।

চুক্তি সম্পর্কে চারটি বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তালেবানকে।

১: মার্কিন-তালিবান চুক্তির শর্তাগুলো আলোচনার সারমর্ম হিসাবে গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের আফগানিস্তান, ন্যাটো এবং আমেরিকার যৌথ ঘোষণার শর্তাগুলো মেনে নিতে হবে।

২: মার্কিন-তালেবান চুক্তি বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সাথে আগফানিস্তানের ঘোষণাপত্রের কর্তৃত্বের স্বীকৃতি দেওয়া হবে না। এবং আলোচনা লোয়া জারগির সিদ্ধান্ত ও জারিরের ঘোষণার ভিত্তিতে অগ্রসর হবে।

৩: উভয় পক্ষই ‘আফগানিস্তানের জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে’ আলোচনা শুরু করে।

৪: কুরআন ও হাদিস হল আলোচনার প্রধান কর্তৃপক্ষ, যা অন্য সবকিছুকে পরিবর্তন করে।

উভয় পক্ষ ফের কবে নাগাদ আলোচনা শুরু করবে সেটা অস্পষ্ট

আফগানিস্তানের সংসদ সদস্য সা’দ জহির মাসরুর বলেছেন, যদি তারা (তালেবান) আন্তঃআফগান বৈঠকে কোনও দৃঢ়প্রত্যয়ী আলোচ্যসূচি নিয়ে আসতে না পারে, তবে তারা নিজেদের সমর্থনকারীদের কাছ থেকে নতুন মতামত খুঁজতে একটি ফাঁক তৈরি করবে।

রাজনৈতিক সমঝোতা বিষয়ক জাতীয় পুনর্মিলনের হাই কাউন্সিলের উপ-প্রধান আসাদুল্লাহ সাদাতী এক সমাবেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আলোচনায় বিভাজনমূলক বক্তব্য দেশের পক্ষে বিপদজনক হতে পারে।

হিজবে ইনকিলাবে ইসলামী দলের প্রধান আবদুল হাকিম মুনিব বলেন, সব সিদ্ধান্ত বর্তমান সংবিধান এবং জাফারি যুদ্ধের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। এটি নিয়ে আমাদের কোনও সমস্যা নেই, আমরা এটি সমর্থন করি।

কাবুলের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফয়জুল্লাহ জালাল বলেছেন, আমি এই প্রতিনিধি দলের কর্তৃপক্ষ এবং বিপরীত দিকের প্রতিনিধিদের সম্পর্কে জানি না। আমরা জানি যে উভয় পক্ষের দাবি রয়েছে এবং জটিলতা রয়েছে।

কাবুল ও তালেবান উভয় দলই ১২ সেপ্টেম্বর আলোচনার শুরুর দিনটিতে ‘‘যোগাযোগ গ্রুপ’’ নামে একটি ছোট গ্রুপ গঠন করেছে। যোগাযোগ গ্রুপটি নিয়মকানুন এবং আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে এখন পর্যন্ত পাঁচটি বৈঠক করেছে।

প্রাথমিকভাবে আলোচনার জন্য ২৩ টি নিবন্ধ ছিল। যোগাযোগ গ্রুপটির মধ্যে সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার পরে এগুলো ২০-এ কমিয়ে আনা হয় এবং এগুলো এখনও পরিবর্তন হতে পারে।

এদিকে, কাবুলে এক সমাবেশে হিযব-ই-ওয়াহাদাত-ই-ইসলামী দলের প্রধান মোহাম্মদ মহাকিক বলেন,  আফগানিস্তানে শান্তি ‘অনিবার্য’ এবং শান্তি আলোচনাকারী দল একই উদ্দেশ্যে নিয়ে দোহায় অবস্থান করছে। তিনি আলোচনার এই সময়টাতে উভয়পক্ষকে নমনীয়তা প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

তোলো নিউজ থেকে ইসমাঈল আযহারের অনুবাদ

আই.এ/

মন্তব্য করুন