
পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন চার্চ সবসময় মানুষের জন্যে সাধারণ জীবন যাপন ও নৈতিক আনন্দকে স্বীকৃতি দেয়। ‘টেরাফিউচুরা’ নামে এক নতুন বইতে পোপ আরও বলেন, ভাল রান্নার খাবার ও ভালবাসায় পরিপূর্ণ যৌনতা সবসময় স্বর্গীয় বিষয় হিসেবে বিবেচিত। এসব ঈশ্বরের কাছে থেকে আমাদের জন্যে সরাসরি উপহার। স্টার ইউকে
বইটির লেখক ইতালির কার্লো পেতরিনি। তাকে পোপ বলেন, আনন্দের কোনো সংগা নেই। এটি ক্যাথলিকও নয়, খ্রিস্টানও নয়। এটি সাধারণ এক স্বর্গীয় বিষয়।
পোপ বলেন অতিমাত্রায় নৈতিকতা নেই যা আনন্দকে অস্বীকার করে এবং পূর্বে ক্যাথলিক চার্চ এধরনের ধারণায় বিশ্বাস করত। আদতে খ্রিস্টান ধর্ম সম্পর্কে এধরনের ধারণা ভুল বার্তা হিসেবে দেয়া হত।
তিনি বলেন চার্চ অমানবিক, বর্বর ও অশ্লীলতাকে নিন্দা করেছে এবং মানবিক, সরল ও নৈতিক আনন্দকে গ্রহণ করেছে। ভাল খাবার মানুষকে স্বাস্থ্যবান রাখে তেমনি যৌনতার আনন্দ প্রেমকে আরো সুন্দর ও বংশপরম্পরাকে স্থায়ী করে তোলে। পোপ বলেন বরং নৈতিকতাহীন আনন্দ ক্ষতিকারক যা এখনো প্রবলভাবে মানুষ উপলব্ধি করে।
আরও নিউজ: নানদের যৌনদাসী করেছিলেন যাজকরা: পোপ ফ্রান্সিস স্বীকার করেছেন যে, গির্জার যাজকরা নানদের যৌন নিপীড়ন করেছেন। এমনকি অনেক যাজক নানদের যৌনদাসী করেও রেখেছিলেন। তিনি বলেছেন, তার পূর্বসূরি পোপ বেনেডিক্ট এ কারণে পুরো একটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, গির্জার নানরা যে যাজকদের হাতে যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন, সেটা এই প্রথমবারের মতো স্বীকার করলেন পোপ ফ্রান্সিস। তিনি বলেছেন, এই সমস্যাটি মোকাবেলার চেষ্টা করেছে গির্জা, তবে এসব ঘটনা এখনো ঘটছে। ক্যাথলিক গির্জার নানদের বৈশ্বিক সংগঠন জানায়, ‘ভয় ও নীরবতার সংস্কৃতির’ কারণে নানরা গির্জার এই যৌন নিপীড়নের ব্যাপারে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারেননি। গির্জায় যাজকদের দ্বারা শিশু এবং তরুণদের ওপর যৌন নিপীড়নের লম্বা অভিযোগের মধ্যেই পোপ ফ্রান্সিস এই মন্তব্য করলেন।
কোথায় যৌন নিপিড়নের ঘটনা ঘটেছে? পোপ বেনেডিক্ট ২০০৫ সালে ফ্রান্সের কম্যুনিটি অফ সেন্ট জেন নামে নারীদের একটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেন। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি রোমান ক্যাথলিক পত্রিকার কাছে স্বীকার করে যে, যাজকরা বেশ কয়েকজন নারীর সঙ্গে এমন আচরণ করেছেন, যা তাদের কৌমার্য রক্ষার ব্রতের সঙ্গে খাপ খায়না। ভারতে আরেকটি ঘটনায় গতবছর একজন বিশপকে গ্রেপ্তার কার হয়, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে ২০১৪ সাল থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে একজন নানকে ১৩বার ধর্ষণ করেছেন। যদিও ওই যাজক অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গত বছর চিলিতে যাজকদের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তোলেন গির্জার নানরা। এরপর তদন্ত শুরু করে ভ্যাটিকান। ইটালি এবং আফ্রিকার গির্জায় যৌন নিপীড়নের কয়েকটি ঘটনার খবর প্রকাশ করে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।
ভ্যাটিকানের নারীদের ম্যাগাজিন, উইমেনস চার্চ ওয়ার্ল্ড বলছে, অনেক ঘটনায় নানরা ধর্মীয় বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও গর্ভপাত করাতে বাধ্য হয়েছেন। নিপীড়নের বিষয়ে পোপের এই স্বীকারোক্তিকে স্বাগত জানিয়ে ম্যাগাজিনের সম্পাদক লুসেত্তা স্কারাফিয়া বলছেন, এটা হয়তো খানিকটা সাহায্য করবে,কিন্তু গির্জাকে আসলে শক্ত ভূমিকা নিতে হবে। ”এ ধরণের কেলেঙ্কারির প্রতি যদি বরাবরের মতো গির্জা চোখ বন্ধ করে রাখে, তাহলে নারীদের ওপর নির্যাতনের পরিস্থিতি কখনোই পাল্টাবে না।” তিনি বলছেন।
আই.এ/

