
এবার ভারতের একটি নদীর তীরে পাওয়া গেছে দুগ্ধপোষ্য শিশুর মরদেহ। ছবিটি ভারতের বিহার প্রদেশের মুজাফ্ফরপুর জেলার। বাগমতী নদীর পাড়ে তিন বছরের অর্জুনের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্তম্ভিত অন্তর্জালবাসী।
ভারতীয় গণমাধ্যম নিউজ১৮ এর জানিয়েছে, বুধবার (১৭ জুলাই) সকালে মুজাফ্ফরপুর জেলার শীতলপট্টি এলাকার রানি দেবী নামের এক নারী তার চার সন্তানকে নিয়ে বাগমতী নদীতে আসেন প্রাত্যহিক কাজ সারতে। কাপড় কাচা, গোসল করা ইত্যাদি ঘরের কাজ সারছিলেন রানি দেবী। হঠাৎ নদীর এক প্রবল ঢেউয়ে ভেসে যায় শিশু অর্জুন। অর্জুনকে বাঁচাতে তিন সন্তানসহ নদীতে ঝাঁপ দেন রানি।
আশপাশের মানুষ রানিদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন।একপর্যায়ে রানি দেবী ও তার এক মেয়ে রাধাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।কিন্তু রানির অন্য তিন সন্তান অর্জুন, রাজা ও জ্যোতি ভেসে যায় নদীতে। এরপর আজ বৃহস্পতিবার পাড়ে ভেসে আসে অর্জুনের মৃতদেহ। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গোটা বিহার এখন বন্যাকবলিত। 
উল্লেখ্য, গত ২৫ জুন বাবা ও তার শিশু কন্যার মৃত্যুর ছবি আলোড়ন তুলেছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিও গ্র্যান্ডে এলাকার এমন দৃশ্য দেখা যায়। এই অংশে মেক্সিকোর সঙ্গে সীমানা রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। মেক্সিকোর এক সংবাদপত্রের মতে, মৃত ব্যক্তি এল সালভাদরের। নাম অস্কার অ্যালবার্তো মার্টিনেজ রমিরেজ ও তার মেয়ে ভ্যালেরিয়া। নীচের দিকে মুখ করে মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন ওই ব্যক্তি। তার টি-শার্টির ভেতরে মাথা ঢুকিয়ে রয়েছে শিশুটি। তার একটি হাত বাবার টি-শার্টের গলার কাছ দিয়ে বেরিয়ে গলায় জড়িয়ে রয়েছে।
তারপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় ছবিটি। সংবাদপত্রটি জানিয়েছে, ওই পরিবার মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে আশ্রয় চেয়েছিল। তা না পেয়ে হাতাশ হয়ে পড়েছিল। রবিবার মেয়েকে নিয়ে নদী পেরিয়ে আসে। মেয়েকে নদীর পাড়ে বসিয়ে রেখে ফের নিজের স্ত্রীকে আনতে জলে নামেন। কিন্তু মেয়ে ভ্যালেরিয়া বাবাকে ছাড়তে চাইছিল না। সেও নদীতে ঝাঁপ দেয়। মেয়েকে ধরে ফেললেও স্রোতে দুজনকেই ভাসিয়ে নিয়ে যায়।মৃত্যু হয় দুজনেরই।
২০১৫ সালে সেপ্টেম্বরে ইউরোপে প্রবেশ করতে গিয়ে মৃত্যু হয় সিরিয়ার তিন বছরের শিশু আইলানের। উদ্বাস্তু সমস্যার সেই ছবি নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা বিশ্বকে। মেক্সিকোর সীমান্ত দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে গিয়ে বহু মানুষের মৃত্যু হয় প্রতি বছর। গত বছরই ২৮৩টি মৃত্যুর খবর মিলেছে।
আইএ/পাবলিক ভয়েস

