
বেআইনিভাবে খনিচুক্তি বাতিল করায় পাকিস্তানকে ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা করেছে আন্তর্জাতিক আদালত। বিপুল অঙ্কের এই জরিমানার কারণে আকাশ ভেঙে পড়ল ইমরান খান সরকারের ওপর। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই জরিমানার পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকা।
অ্যান্টোফ্যাগেষ্টা পিএলসির দেওয়া তথ্যের বরাতে পাক গণমাধ্যম ‘দ্যা ডন’ জানায়, টিথিয়ান কপার কর্তৃপক্ষ প্রায় এক দশক আগে পাকিস্তানের ইরান ও আফগান সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে একটি মৃত আগ্নেয়গিরির পাদদেশে বিশাল খনিজ সম্পদের ভাণ্ডারের আবিষ্কার করেছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় সোনা ও তামার খনির মধ্যে একটি অন্যতম।
যৌথ মালিকানাধীন এই কোম্পানিটির দাবি, ২০১১ সাল পর্যন্ত ‘রেকো ডিক’ নামে খনিটির বিভিন্ন খাতে প্রায় ২২ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে তারা। যদিও বেলুচিস্তান সরকার অপ্রত্যাশিতভাবে খনির ইজারা নবায়ন না করায় তাদের পক্ষে সেখানে আর কাজ করা সম্ভব হয়নি। যার প্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি সংস্থা (আইসিএসআইডি) পাক সরকারের বিপক্ষে রায় দিলেও; তখন এর প্রকৃত জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি।
এ দিকে গত শনিবার (১৩ জুলাই) টিথিয়ান কপারের বোর্ড চেয়ারম্যান উইলিয়াম হায়েস এক বিবৃতিতে জানান, তারা এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করতে সম্মত আছে। তিনি আরও বলেন, ‘বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা কোম্পানির বাণিজ্যিক ও আইনগত সকল স্বত্ব বজায় রাখতে প্রস্তুত।’ বিশ্লেষকদের মতে, ‘রেকো ডিক’ খনির মামলাটি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সামনে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের এক পরীক্ষা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানের চলমান অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে যা অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এর আগে কোনও দেশকে এত মোটা অঙ্কের জরিমানার নজির ইতিহাসে নেই। এমনিতেই আর্থিকভাবে ধুঁকছে পাকিস্তান। নতুন এই জরিমানা এখন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা। খবর ফার্স্টপোস্টের।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোনা ও তামার আকরিকের জন্য বিখ্যাত পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশের রেকো ডিক এলাকা। ইরান ও আফগানিস্তান সীমান্তের ওই এলাকায় খননকার্য চালাতে বিনিয়োগ করে চিলে ও কানাডার যৌথ সংস্থা টেথিয়ান কপার কোম্পানি।
আইএ/পাবলিক ভয়েস

