
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
৯ বিয়ে ও যৌতুকের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামিন পেয়েছেন ইসলামী আলোচক, লেখক ও ৩১৩ কোম্পানির চেয়ারম্যান মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ। রোববার ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলার শুনানি শেষে তাঁর জামিন মঞ্জুর করা হয়।
মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে, কাবিন নিবন্ধন না করা এবং স্ত্রীকে মারধর করে ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন মুফতী মিছবাহ। তাঁর দাবি, তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করা এবং তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে মামলাটি করা হয়েছে।
গত ২০ আগস্ট মুফতী মিছবাহর স্ত্রী হুমায়রা জান্নাত ওরফে নাঈমা যৌতুক আইনের ৩ ধারায় ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলাটি করেন। মামলার অভিযোগে নাঈমা দাবি করেন, মুফতী মিছবাহ ৯টি বিয়ে করেছেন এবং তিনি তাঁর পঞ্চম স্ত্রী। তাঁদের বিয়ের কাবিন নিবন্ধন করা হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়। এ ছাড়া ১০ আগস্ট রাত ১০টার দিকে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালীর একটি ভবনে তাঁকে মারধর করে ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
মুফতী মিছবাহ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মামলার কোনো অভিযোগই সত্য নয়। তাঁর দাবি, ২০২১ সালের ২৯ মে কাবিন নিবন্ধনের মাধ্যমে তাঁদের বিয়ে হয়। এ-সংক্রান্ত নথিও আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে নাঈমার পাসপোর্টে স্বামীর নাম হিসেবে তাঁর নাম রয়েছে বলেও দাবি করেন মুফতী মিছবাহ। ওই পাসপোর্ট ব্যবহার করে তাঁরা একাধিকবার বিদেশে গেছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
৯ বিয়ের অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুফতী মিছবাহ। তাঁর দাবি, মামলার এজাহারে ৯টি বিয়ের কথা বলা হলেও নাঈমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টে ছয়টি বিয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আবার মামলার আগে পাঠানো আইনজীবীর নোটিশে নাঈমা নিজেকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
মুফতী মিছবাহ আরও দাবি করেন, ১০ আগস্ট রাতে মারধর ও যৌতুক দাবির অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। তাঁর ভাষ্য, ওই দিনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ৮টা ২০ মিনিটে তিনি অফিস থেকে বের হন এবং এরপর আর অফিসে ফেরেননি। রাত ১০টার আগেই অফিস বন্ধ হয়ে যায় বলেও দাবি করেন তিনি।
মামলার কয়েকজন সাক্ষীও অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন মুফতী মিছবাহ। তাঁর দাবি, নাঈমার মা, খালা ও মামা ভিডিও বার্তায় মামলাটিকে মিথ্যা বলেছেন।
মামলায় ২০২০ সালে কুতুবখালীর একটি ভবনে শ্লীলতাহানির অভিযোগের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুফতী মিছবাহ। তাঁর দাবি, যে ভবনের কথা মামলায় বলা হয়েছে, সেটির উদ্বোধনই হয়েছে ২০২৪ সালে। ফলে ২০২০ সালে সেখানে ওই ঘটনা ঘটার অভিযোগের সঙ্গে সময়ের অসঙ্গতি রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া ২০২০ সালে আদালতে দেওয়া একটি হলফনামায় নাঈমা তাঁর আগের সংসার ছাড়ার কারণ হিসেবে স্বামীর নির্যাতনের কথা উল্লেখ করেছিলেন এবং ওই সংসার ছাড়ার সঙ্গে মুফতী মিছবাহর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
বিয়ের তারিখ নিয়েও মামলার অভিযোগের সঙ্গে কাবিননামায় অসঙ্গতি রয়েছে বলে দাবি করেছেন মুফতী মিছবাহ। তাঁর ভাষ্য, মামলায় ৪ মে ২০২০ তারিখে বিয়ের কথা বলা হলেও কাবিননামায় ২৯ মে ২০২১ তারিখ উল্লেখ রয়েছে।
মুফতী মিছবাহর অভিযোগ, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে। এ কাজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি পেজ ও কয়েকজন ব্যক্তির ভূমিকা রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, এই বিরোধের কারণে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাঁর হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। এ বিষয়ে প্রশাসনের আইনগত সহযোগিতা এবং প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মুফতী মিছবাহ তাঁর দেড় বছর বয়সী ছেলে আফরাদ বিন মিছবাহর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মামলার অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট নথিগুলো যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

