সাইফুর সাগর ও আহসান কামরুলের নেতৃত্বে জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটির আত্মপ্রকাশ

প্রকাশিত: ৫:১৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

 

গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও সমর্থক সাংবাদিকদের সংগঠন ‘জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি (জেজেইউ)’র আত্মপ্রকাশ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে ফেস দ্য পিপলের সম্পাদক সাইফুর সাগরকে আহ্বায়ক এবং চ্যানেল আইয়ের আহসান কামরুলকে সদস্যসচিব করে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়র মা সামসিয়ারা জামান কমিটি ঘোষণা করেন।

কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন দৈনিক জাতীয় অর্থনীতির প্রকাশক লুৎফর রহমান বাদল, দৈনিক পাঞ্জেরীর সম্পাদক তালুকদার রুমি, এখন টিভির মাহমুদ রাকিব, চ্যানেল আইয়ের আকতার হাবীব, দ্য নিউ নেশনের শিমুল পারভেজ, ডেইলি ইন্ডাস্ট্রির রিয়াজুর রহমান রিয়াজ এবং দৈনিক জনকণ্ঠের ইসরাফিল ফরাজী।

যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন দৈনিক জনকণ্ঠের আবদুর রহিম, বাংলাভিশনের কেফায়েত শাকিল, অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, ভিওডি বাংলার নুরুল ইসলাম খান মামুন, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ওবায়দুর রহমান, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক একেএম রেজাউল করিম, দৈনিক বর্তমানের নিজাম উদ্দিন দরবেশ এবং দৈনিক রূপালী বাংলাদেশের রহমতুল্লাহ।

সদস্য হিসেবে রয়েছেন অনলাইন বাংলার সম্পাদক খোমেনি এহসান, এটিএন বাংলার আল ইমরান, এশিয়া পোস্টের অন্তু মোজাহিদ, দৈনিক যায়যায়দিনের জালাল আহমেদ, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক রাকেশ রহমান, সোনালী নিউজের সাজ্জাদ হোসেন, দৈনিক ইত্তেফাকের ডিজিটাল হেড ফখরুল ইসলাম, আরটিএনএনের আবু বকর সিদ্দিক, দৈনিক মানবজমিনের মিফতাহুল জান্নাত, বাংলানিউজের ফারজানা ববি, বাংলাদেশ টাইমসের তাসবির ইকবাল, নতুন আশার মোর্শেদুল আলম, দেশ রূপান্তরের কেফায়েত রুমি, দেশ টিভির মেহেদী হাসান বাপ্পি, চ্যানেল আইয়ের রাশেদ মানিক, বাংলাভিশনের ওমর ফারুক, স্টার নিউজের এইচ এম ইমরান হোসেন এবং আজাদ বাণীর মেহরাজ রাব্বি।

অনুষ্ঠানে জেজেইউর আহ্বায়ক সাইফুর সাগর বলেন, ‘জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি সময়ের প্রয়োজনে তৈরি হয়েছে। জুলাইপন্থী সব সাংবাদিকের জন্য এ সংগঠন উন্মুক্ত। গণমাধ্যমকে সঠিক পথে রাখতে জুলাইয়ের সাংবাদিকেরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবেন।

সদস্যসচিব আহসান কামরুল বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংবাদমাধ্যম সঠিক ভূমিকা রাখতে না পারলেও মানুষের কাছে এখনো গণমাধ্যমের প্রত্যাশা রয়েছে। সেই প্রত্যাশা পূরণে গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যেই তাঁরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, অন্যদের সমালোচনা করার আগে নিজেদের আত্মসমালোচনা করতে হবে। আগের অবস্থার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। মানুষের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এমন সৃষ্টিশীল কাজ করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ইলিয়াস বলেন, সাংবাদিকদের অংশগ্রহণ ছাড়া গণঅভ্যুত্থান সম্ভব ছিল না। সাংবাদিকদের একটি অংশ এতে সমর্থন জানিয়েছিল। দলান্ধতার পরিবর্তে তাঁদের দেশের জন্য কাজ করে যেতে হবে।

আলোকচিত্রী শহীদুল আলম বলেন, প্রেসক্লাবে শেখ হাসিনার ছবি সাংবাদিকেরাই ঝুলিয়েছিলেন। ভবিষ্যতে যেন একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। দেশের মানুষের জন্য নিরপেক্ষভাবে সাংবাদিকতা করতে হবে, যাতে সরকার পরিবর্তন হলে সাংবাদিকদের পালিয়ে যেতে না হয়।

জেজেইউর যুগ্ম আহ্বায়ক তালুকদার রুমি বলেন, ফ্যাসিবাদী সময়ে অনেক সাংবাদিক আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন। তাঁরা তখন যেমন বঞ্চিত ছিলেন, এখনো বঞ্চিত। জুলাইয়ের সাংবাদিকদের ন্যায্য হিস্যা আদায়ে জেজেইউ কাজ করবে।

জেজেইউর সদস্য ও অনলাইন বাংলার সম্পাদক খোমেনি এহসান বলেন, নির্ভয়ে সত্য বলার অধিকার নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। হামলা, মামলা ও চাকরিচ্যুতির হুমকি যেন সাংবাদিকের কলম থামিয়ে দিতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতে তাঁরা কাজ করবেন। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, পেশাগত মর্যাদা এবং জনগণের জানার অধিকারের পক্ষে তাঁদের অবস্থান থাকবে।

অনুষ্ঠানে শহীদ জাবির ইব্রাহিমের বাবা কবির হোসেন এবং শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়র মা সামসিয়ারা জামান বক্তব্য দেন। তাঁরা দেরিতে হলেও সংগঠনটির আত্মপ্রকাশকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে তাঁরা বলেন, চরম বিরোধীরাও যেন অন্যায়ের শিকার না হন, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং সাংবাদিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন