
মুহাম্মদ ইকরামুল হক, চট্টগ্রাম: বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে কম বেশি অধিকাংশ পরিবারই জীবনের মান উন্নয়ণ ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে ঋণ গ্রহণ করে থাকেন। প্রত্যাশী’ এমনই একটি এনজিও সংস্থা, প্রত্যাশীর মাঠকর্মী কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার হারবাং এলাকার বদিউল আলমের ছেলে সাবের আলম, তিনি ১ বছর ধরে প্রত্যাশীর মাঠকর্মী হিসেবে কর্মরত।
চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভাধীন লালুটিয়া গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধি ১৫ বছরের এক কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৫ মে পর্যন্ত বেশ কয়েকবার শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। শারীরিক অসুস্থতা দেখে নিকটস্থ দোহাজারী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর মেয়েটি ৮ মাসের অন্তসত্বা বলে জানায়।
পরে বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় ইউপি সদস্য জনাব এস্কান্দরকে অবহিত করলে গত ২৪ জুন সকালে এনজিও কর্মী সাবের আলম লালুটিয়া এলাকায় কিস্তির টাকা উত্তোলন করতে গেলে ইউপি সদস্য এস্কান্দরসহ ভিকটিমের পরিবারের সদস্যরা তাকে আটক করে দোহাজারী তদন্ত কেন্দ্রে সোপর্দ করে।
পরে দোহাজারী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. মনিরুল ইসলাম ভুইয়া ভিকটিম ও এনজিও কর্মী সাবের আলমকে ওইদিন রাতে চন্দনাইশ থানায় হস্তান্তর করে। এ ব্যাপারে রাতে ভিকটিম বাদি হয়ে সাবের আলমের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মামলার সূত্র ধরে সাবের আলমকে আটক দেখিয়ে গতকাল ২৫ জুন আদালতে প্রেরণ করে।
চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেশব চক্রবর্ত্তী সাংবাদিকদের কাছে এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আসামী সাবের আলমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।’ এদিকে ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত আসামী সাবের আলম নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘লালুটিয়া এলাকায় কিস্তির টাকা উত্তোলন নিয়ে স্থানীয়ভাবে সৃষ্ট জটিলতার কারণে আমাকে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনায় ফাঁসানো হয়েছে।’
ইউপি সদস্য মোহাম্মদ এস্কান্দর আজাদীকে জানান, এ ব্যাপারে ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়ে এলাকার ইউপি সদস্য হিসেবে তিনি অভিযুক্ত এনজিও কর্মী সাবের আলমকে ধরে দোহাজারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে বুঝিয়ে দেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের আহ্বান জানান।

