স্বাধীনতা দিবসের ডায়েরি

প্রকাশিত: ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৬, ২০১৯

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আর স্বাধীনতা অভিন্ন সত্তা। রাজনীতিতে তিনি ছিলেন বরপুত্র। কিন্তু রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ততোটা না। এমন একজন নেতার শাসনকাল খুব অল্পতেই শেষ হয়ে গিয়েছিল দূর্ভাগ্যক্রমে। ঘাতকদের বিচার হয়েছে। ফাঁসি হয়েছে। যাদের ফাঁসি দেয়া সম্ভব হয়নি এবং বেঁচে আছে, ওদের অপঘাতে মৃত্যু কামনা করছি।

স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহীদদের ও পনেরই আগস্টের মর্মান্তিক ঘটনায় যারা মরহুম হয়েছেন সকলের রুহের মাগফিরাত কামণা করছি।

গতকাল প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুনছিলাম। তিনি বঙ্গবন্ধু ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন হলে বক্তৃতা করছিলেন। অনেক অর্জন ও স্বপ্নের কথা শুনালেন। তিনি মরহুম পিতার স্মৃতি রোমন্থন করলেন। আবেগাপ্লুত হলেন। সব ঠিক আছে। কিন্তু, স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরেও কেন মানুষ বিভিন্ন মৌলিক অধিকার নিয়ে কথা বলবে? এ ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য ছিলো শতভাগ আউলা-ঝাউলা। তাঁর বক্তব্য অনেকটা এ ধরনের- বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে দেশে নির্বাচনগুলো পেশী শক্তি, সন্ত্রাস ও কালো টাকার মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওরা ভোট ডাকাতি করে নির্বাচন ব্যবস্থাকে কলুষিত করেছে।

স্বাধীনতার ‘সূত্র’ যদি বলা হয়, তাহলে সেটা হবে ৭০’র নির্বাচন। পাকিস্তানের শাসকরা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে নির্বাচিতদের হাতে গোঁয়ার্তুমি করে ক্ষমতা অর্পণ করে নাই। অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু তথা পূর্ব পাকিস্তানের সাথে তারা বেঈমানি-বেইনসাফি করেছে। ভোটের অধিকারের প্রতি সম্মান না জানানোর ফলশ্রুতিতে এক পর্যায়ে তাঁরই নেতৃত্বে একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে নতুন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। পূর্ব পাকিস্তান থেকে স্বাধীন বাংলাদেশ। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ।

আমরা একটি মানচিত্র ও একটি লাল সবুজ পতাকা পেলাম। আমরা স্বাধীন, এর আনন্দ ও সুস্বাদ যারা পরাধীন থাকে, তারা উপভোগ করতে পারে না। আমরা বিজয়ী ও সৌভাগ্যবান।

স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পালিত হবে কয়েক বছরের মধ্যে। কিন্তু অনেক অর্জন ও প্রাপ্তির মাঝেও রয়েছে বিস্তর অতৃপ্তি। ‘ভাত ও ভোটের অধিকার’ শ্লোগান টা যেন একটা প্রবাদ এখানে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন বহুত হয়েছে। সত্তর ও আশির দশকে পঁচা গম থেকে বানানো আটার রুটি খেয়েছে অধিকাংশ মানুষ। ভাত যারা খেয়েছে তাও ছিল পঁচা চাউলের। রেশন বা কন্ট্রোলের গমের রুটি বা চালের ভাত খায়নি এমন মানুষ ছিল কি? আজ আর সে অবস্থা নেই। কিন্তু এখনো কোটি কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নীচে। আর কয়েক হাজার মানুষ দেশের সম্পদ কুক্ষিগত করে রেখেছে। ধনী ও গরীবের বৈষম্যটা প্রকটতর হচ্ছে। লুটেরারা দেশের টাকা এখন বিদেশে বিনিয়োগ করছে। যা দেশের মূলধনের বিরাট একটা অংশ।

সবচেয়ে অধঃপতন হয়েছে নীতি-নৈতিকতার। মানুষের মাঝে এটা আর অবশিষ্ট নেই। মানবিক মূল্যবোধ, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহনশীলতার বড়ই অভাব এখানে।

একরত্তি নীতিবোধ থাকলে দেশের সিনিয়র সিটিজেন হয়েও দিনে দুপুরে এমন মিথ্যাচার করতে পারে? অথচ তারা শপথ নেয়া পাবলিক। অগা মগা কেউ না। আমি নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের কথা বলছি। একটা স্বাধীন দেশের নির্বাচন কমিশনে এমন যারা আছেন, তাদের কাছে স্বাধীনতার মাহাত্ম্য বলতে কিছু বাকি আছে? এদের মত পাপেটদের কারণে দেশ আজ উচ্ছন্নে গেছে। নির্লজ্জ কমিশন।

আর রাজনীতিক হলেই ননস্টপ ক্ষমতায় থাকতে হয় বুঝি! এটার নাম কি গণতন্ত্র? কট্টর পাকিস্তানী ও শয়তানেরা এখন মুখ টিপে হাসছে। একটি দেশের প্রায় সকল বিবেকওয়ালা মানুষ যেন মূক ও বধির হয়ে গেছে। স্বাধীনতার মূল স্পিরিট যারা খেয়ে ফেলেছে, এরা ইনিয়েবিনিয়ে তাঁদেরই পদলেহন করছে। তবুও আমরা আমরাই। আমরা স্বাধীন। এটা অন্ততঃ কেতাবে আছে তো!

দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আজ কোথায় গিয়ে ঠেকেছে, তা প্রকাশ্যে বিশ্লেষণ করা ঠিক না। ভাসুরের নাম মুখে নিতে নেই। তারা নাকি পুরো দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা দেয়ার মালিক !অথচ এখনো মেয়ে শিশু-কিশোরীদের শরীর রয়েছে নিরাপত্তাহীনতায়। কখন কোন ছোকরা হায়েনাদের মত খুবলে খুবলে খাবে?

ছোট্ট এ দেশটা কারা, কখন ও কিভাবে চালাবে সে ব্যাপারটার সিদ্ধান্ত এখনো জানা গেল না। ‘জনগনের সরকার’ বলতে যে একটা কথা আছে, তা নিছক রাষ্ট্র বিজ্ঞানের একটি বিষয় যেন! বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে।

নারীর সতীত্ব নিয়ে দু’বান্ধবী আলোচনা করছে।
-তুই এটা সম্পর্কে কি জানো?
-ছোটকাল থেকে মা খালাদের মুখে শব্দটা শুনেছি।
-ডিসগাস্টিং! এটা নিয়ে মানুষ এখনো কথা বলে!
-হ দোস্ত! বইতে যে এখনো লেখা আছে এটা!

লেখক: এক্টিভিস্ট, বিশ্লেষক।

মন্তব্য করুন