সুনামগঞ্জে বাবাকে হত্যা: সৌদি থেকে টাকা পাঠালেন ছেলে, খুনি ভাড়া করলেন পুত্রবধূ

প্রকাশিত: ৯:৫৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০২৬

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি 

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে জমি লিখে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে মোহাম্মদ আলী (৭৫) নামে এক বৃদ্ধকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের পুত্রবধূসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার পুত্রবধূ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—নিহতের পুত্রবধূ হোসনা বেগম (৩৮), রুহুল আমিন (২২) ও নজরুল ইসলাম (২০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে গত ১৪ আগস্ট রাতে নিজ ঘরে হত্যার শিকার হন বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলী। তার একমাত্র ছেলে ইসমাইল হোসেন সৌদি আরবে বসবাস করেন। বাড়িতে মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে থাকতেন তার পুত্রবধূ হোসনা বেগম ও তাদের সন্তান।

পুলিশের দাবি, জমি লিখে দেওয়ার জন্য বাবার ওপর চাপ সৃষ্টি করলেও তাতে রাজি হননি মোহাম্মদ আলী। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ছেলে ও পুত্রবধূ তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। অভিযোগ রয়েছে, সৌদি আরব থেকে হত্যার জন্য টাকা পাঠান ছেলে ইসমাইল হোসেন এবং সেই টাকা দিয়ে খুনি ভাড়া করেন হোসনা বেগম।

ঘটনার পর প্রথমে বিষয়টি স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে প্রচার করা হয়। হোসনা বেগম নিজেই স্থানীয়দের জানান, ঘুমের মধ্যে তার শ্বশুর মারা গেছেন। পরে স্থানীয়রা দাফনের প্রস্তুতিও নেন।

তবে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার। লাশের গলায় দাগ ও মুখে রক্তের চিহ্ন দেখতে পেয়ে তার সন্দেহ হয়। এরপর দাফন স্থগিত করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পরে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে হোসনা বেগম হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বিষয়ে তথ্য দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রুহুল আমিন ও নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনা অনুযায়ী রাত আনুমানিক ১২টার দিকে রুহুল আমিন, নজরুল ইসলামসহ আরও একজন বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় দরজা খুলে দেন হোসনা বেগম। পরে মই বেয়ে মোহাম্মদ আলীর কক্ষে প্রবেশ করে ঘুমন্ত অবস্থায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়। এ সময় হোসনা বেগম ওপর থেকে বাতি দেখিয়ে সহযোগিতা করেন বলে পুলিশের দাবি।

হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পরদিন সকালে হোসনা বেগম প্রতিবেশীদের ডেকে শ্বশুর দরজা খুলছেন না বলে পরিস্থিতি ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহতের নাতনি আছমা বেগম বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে দোয়ারাবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য করুন