দেশে বিদ্যুতের চরম সংকটের সময়ে বিলাসী জীবন কাটাচ্ছেন পিডিবির প্রকৌশলী মাহফুজ

প্রকাশিত: ৩:৩৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০২৬

নঈম মিজান, চট্টগ্রাম 

‎দেশে বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং নিয়ে যখন মানুষের দুর্ভোগ চরমে, তখন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সাবেক সুপারিনটেনডিং ইঞ্জিনিয়ার শেখ মো. মাহফুজুল হকের বিরুদ্ধে ঘুষের অর্থে বিলাসী জীবনযাপন ও বিপুল অর্থ অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিজাত হোটেলে মদের আসর, নারীদের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় এবং কথিত অবৈধ অর্থ দিয়ে ভোগবিলাসে মেতে থাকার নানা অভিযোগ করেছেন তাঁর ঘনিষ্ঠজন ও এক নারী অভিযোগকারী।

‎অভিযোগ অনুযায়ী, চট্টগ্রামের অভিজাত হোটেল ওয়েল পার্ক, রেডিসন ব্লু ও সোনারগাঁওয়ের মতো হোটেলে নিয়মিত বসত মদের আসর। সেখানে মাহফুজুল হকের সঙ্গে পিডিবির কর্মকর্তা গিয়াস ও তাঁর বন্ধু সুমন্তও থাকতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দামি মদ, খাবার ও হোটেল বিল পরিশোধে একেক রাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হতো বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

‎শুধু মদের আসর নয়, নারীদের পেছনেও মাহফুজুল হক বিপুল অর্থ ব্যয় করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এক নারী অভিযোগকারী দাবি করেছেন, তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন সম্পর্ক বজায় রাখার সময়ও মাহফুজুল হক তাঁর ওপর বিপুল অর্থ ব্যয় করতেন। ওই নারীকে ২০২৫ সালে আকদ করার পর তিনি অন্তঃসত্ত্বা হলে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর অভিযোগও করেছেন।

‎অভিযোগকারীর ভাষ্য, গর্ভপাতের পর তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ঢাকায় চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন। এরপর মাহফুজুল হক তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে তাঁকে ভয় দেখানো ও চাপে রাখার উদ্দেশ্যে একাধিক মামলা ও সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

‎অভিযোগে মাহফুজুল হকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পিডিবির কর্মকর্তা গিয়াসের নামও এসেছে। ওই নারী দাবি করেছেন, মাহফুজুল হকের কথিত অবৈধ অর্থের একটি অংশ গিয়াসের কাছে রাখা হতো। তাঁর বিরুদ্ধে মাহফুজুল হকের হয়ে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করার অভিযোগও রয়েছে।

‎অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা অবস্থায় অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থের মালিক হন মাহফুজুল হক। সেই অর্থের একটি অংশ তিনি নিজের বিলাসী জীবন, দামি হোটেলে অবস্থান, মদের আসর ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের পেছনে ব্যয় করতেন।

‎একদিকে বিদ্যুৎ খাতে অর্থের সংকট, অন্যদিকে একজন সরকারি প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঘুষের অর্থে এমন বিলাসী জীবনযাপনের অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে তাঁর সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, হোটেল বিল, আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের দাবি উঠেছে।

‎তবে শেখ মো. মাহফুজুল হক, গিয়াস ও সুমন্তের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য করুন