কুয়েত থেকে ফেরত নারী নান্দাইলে প্রবাসী স্বামীর বাড়িতে স্ত্রীর স্বীকৃতি পেতে অনশন। 

প্রকাশিত: ৭:০৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৯, ২০২৫

আকরাম হোসেন নান্দাইল উপজেলা প্রতিনিধিঃ 

ময়মনসিংহের নান্দাইলে প্রবাসী স্বামীর বাড়িতে স্ত্রীর স্বীকৃতি পেতে গত তিন দিন ধরে অবস্থান করছেন রুমা আক্তার (৩৬) নামের এক কুয়েত ফেরত প্রবাসী নারী। এমন ঘটনা ঘটেছে উপজেলার রাজগাতি ইউনিয়নের দক্ষিণ কয়রাটি গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমানের বাড়িতে। অভিযুক্ত স্বামী নুর নবী কুয়েত প্রবাসী, সে হাবিবুর রহমানের পুত্র। প্রবাসী নারী নরসিংদী সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামের মো. আবুল কালামের কন্যা। জানা গেছে- গত দুই বছর আগে রুমা আক্তার কুয়েতে সেবিকা হিসেবে কাজে যান। সেখানে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে কুয়েত প্রবাসী নূর নবী (৩০) নামের এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে এক বছর পরেই দুজনে মিলে কুয়েতে বিয়ে করে ফেলেন। সেখানেই গত এক বছর ধরে দুজনের সংসার চলছিল। হঠাৎ স্বামী নুর নবী মোবাইল ফোনে দেখতে পান অন্য এক নারীর ছবি, যাকে পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ে করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন খবর শুনে স্ত্রী রুমা আক্তার নুর নবীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। গত ২২ নভেম্বর কুয়েত থেকে নরসিংদী আসেন রুমা আক্তার। পরে ২৭ নভেম্বর নান্দাইল উপজেলার রাজগাতি ইউনিয়ন দক্ষিণ কয়রাটি গ্রামে নুর নবীর বাড়িতে স্বামীর স্বীকৃতি পেতে অবস্থান নিলে নুর নবীর পরিবার ধাওয়া দেয়। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্যের বাড়িতে সহায়তা চান রুমা আক্তার। শনিবার দুপুরে উপজেলার দক্ষিণ কয়রাটি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়,- সাবেক ইউপি সদস্য মো. হাবিবুর রহমানের বাড়িতে প্রবাসী রুমা আক্তার অবস্থান করছেন। তাকে এলাকার মানুষজন ও ইউনিয়নের দফাদার রুস্তম আলি সহ ৩-৪ জন গ্রাম পুলিশ পাহারা দিচ্ছেন। সাংবাদিক উপস্থিতি দেখে বিয়ের সকল কাগজপত্র ও স্বামীর সঙ্গে বিয়ের ছবি দেখান। প্রবাসী নুর নবীর পিতা সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন,- ছেলে বিয়ে করছে তা আমি জানি না। এখন ছেলে যদি তাকে (রুমা) নিয়ে সংসার করে এতে তো আমার কিছু করার নেই। তবে মেয়ে আসার পরে আমার ছেলে বলেছে কুয়েতে বসে সমাধান করেছে তারপরেও কেন বাড়িতে অবস্থান নিয়েছে বুঝতেছি না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রবাসে থাকা নুর নবী মোবাইল ফোনে বলেন- বিয়ে করেছি সেটি সত্য, তবে রুমা আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। সে বলেনি তার আগে বিয়ে হয়েছিল এবং একটি সন্তান রয়েছে। রাজগাতি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সদস্য মো. মিজানুর রহমান বলেন- মেয়েটি প্রথমে তার স্বামীর বাড়িতে গিয়ে অবস্থান করতে চাইলে তারা বাঁধা দেয়। পরে আমি আমার বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছি। আজকে আবার সে তার স্বামীর বাড়িতে অবস্থান নিয়েছে। ছেলের পরিবারকে বিষয়টি সমাধানের জন্য বলেছি তারা এ ব্যাপারে কোন সাড়া দিচ্ছে না।ঘটনা স্থলে যাওয়া নান্দাইল মডেল থানার উপপরিদর্শক (এএসআই) ঝুটন চন্দ্র সরকার বলেন- খবর শুনে প্রবাসী নারী কে হাবিবুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে দেখে এসেছি। বিষয়টি সমাধানের জন্য বলা হয়েছে।

মন্তব্য করুন