ভুঞাপুরে ৪০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি

প্রকাশিত: ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০১৯

টাঙ্গাইলের ভুঞাপু‌রে পাঁচ‌টি ইউ‌নিয়নের ৪০ গ্রামের মানুষ পা‌নিব‌ন্দি হয়ে পড়েছেন। যমুনা নদী‌র পা‌নি বাড়ায় বন্যার্ত এসব গ্রামে খাদ্য ও সুপেয় পা‌নির ত‌ীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গতকাল বুধবার (১৭ জুলাই) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় অনেকে গরু-ছাগল ও পরিবার-পরিজন নিয়ে উঁচু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।

টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ভুঞাপুর উপজেলায় যমুনার পানি বিপদসীমার ৭২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সামনে পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে যমুনা নদীতে পানি বেড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ঢুকে পড়ায় সেগুলো বন্ধ ঘোষণা করেছে কতৃর্পক্ষ। এতে উপজেলার ৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে।

উপজেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভুঞাপুরের গোবিন্দাসী ইউনিয়নের ৪টি গ্রাম, নিকরাইল ইউনিয়নে ৮টি, গাবসারা ইউনিয়নে ৬টি, অর্জুনা ইউনিয়নে ১৮টি ও ফলদা ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এর আগে কয়েকদিনের ভাঙনে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের তিনটি গ্রামে ভাঙন হয়। তাতে শতাধিক পরিবার গৃহহারা হয়ে পড়ে। এছাড়া অর্জুনা ও গাবসারা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে ভাঙনে ফসলি জমি নদী গর্বে চলে গেছে।

ভাঙন ও বন্যার কারণে দিশেহারা এসব মানুষ মানববেতর জীবন-যাপন করছে। জায়গাসহ ঘরবাড়ি হারিয়ে মানুষ নিঃস্ব হয়ে খোলা আকাশের নিচে, কেউ বা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।

যদিও ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তারা বলছেন, ভাঙনরোধে সরকার যদি কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতো তাহলে মানুষকে বাপ-দাদার ভিটে-বাড়ি ছাড়তে হতো না। আঘাত হানতে পারতো না প্রমত্তা যমুনা। একদিকে ভাঙন অন্যদিকে বন্যা মানুষের জীবনকে ওষ্ঠাগত করে তুলেছে।

গাবসারা ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের আনছের আলী বলেন, বন্যা ও বৃষ্টির কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঘরে পানি ওঠার কারণে স্থানীয় বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছি। কিন্তু পানি ও খাবার সংকটের পাশাপাশি গো-খাদ্যের সংকটেও পড়ে গেছি।

গাবসারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুনিরুজ্জামান মনির জানান, গাবসারা ইউনিয়ন পুরোটাই চরাঞ্চল। বন্যার কারণে পুরো ইউনিয়নের ৫০টি গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। এতে বেশ কয়েকটি গ্রাম পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ত্রাণ সহায়তা পাওয়া যায়নি।

উপজেলা মাধ্যামিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলাম জানান, বন্যাকবলিত এলাকার বিদ্যালয়গুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঝোটন চন্দ জানান, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটি ইউনিয়নেই বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যাকবলিত মানুষের সহযোগিতার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাসেবার জন্য মোবাইল টিম গঠন করা হয়েছে।

টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিজ্ঞান শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান, ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে টাঙ্গাইলের যমুনা, পুংলী, ঝিনাই, বংশাই ও ধলেশ্বরীর পানি আরও বেড়েছে। এর মধ্যে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৭২ সেন্টিমিটার, ধলেশ্বরী নদীর দেলদুয়ার উপজেলার এলাসিন ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় বিপদসীমার ৮৯ সে.মি. এবং ঝিনাই নদীর পানি কালিহাতী উপজেলার যোকারচর এলাকায় বিপদসীমার ৪৫ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বাকি দু’টি নদী পুংলী ও বংশাইয়ে পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জিআরএস/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন