
স্টাফ রিপোর্টার
গাজীপুরের বিতর্কিত যুবলীগ নেতা হাবিবুর রহমান ওরফে ‘পল্টি হাবিবের’ বিরুদ্ধে চরম নৈতিক অবক্ষয় ও স্বজনপ্রতারণার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। নিজের স্ত্রীর সঙ্গে প্রতারণা করে তিনি রক্তের সম্পর্কের এক স্বামীহারা চাচাতো বোনের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু অনৈতিক সম্পর্কই নয়, ওই স্বজনের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকা এবং বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বোনটির স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই তাকে নিজের প্রেমের ফাঁদে ফেলেন পল্টি হাবিব। স্বজন হারানোর শোক ও সামাজিক অসহায়ত্বকে পুঁজি করে তিনি ধীরে ধীরে ওই নারীর ওপর প্রভাব বিস্তার করেন। একপর্যায়ে মৃত ভগ্নিপতির রেখে যাওয়া বিপুল সম্পদের একটি বড় অংশ চক্রান্তের মাধ্যমে নিজ দখলে নেন। বর্তমানে ওই নারীকে তিনি নিজের তত্ত্বাবধানে রেখেছেন এবং লোকচক্ষুর আড়ালে অনৈতিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে তাকে কিছু ব্যবসা-বাণিজ্য দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ে রেখেছেন। এই সুযোগেই বিভিন্ন অজুহাতে ওই নারীর কাছ থেকে কৌশলে তিনি নগদ প্রায় ২৫ লাখ টাকা পকেটে পুরেছেন।
গাজীপুরের বোর্ড বাজার এলাকার এক স্থানীয় ফার্মাসিস্ট নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘ দিন ধরে হাবিবের এই অনৈতিক কর্মকাণ্ড সবার অলক্ষ্যে চলে আসছিল। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা ও কানাঘুষা চলছে।
পল্টি হাবিবের এই অপকর্মের বিষয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার নিজস্ব পরিবারের সদস্যরাও। তার এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয় আক্ষেপ করে বলেন, “হাবিবের নারীদের প্রতি এই অনিয়ন্ত্রিত লোভ বহু পুরোনো। কিন্তু নিজের রক্তের সম্পর্কের স্বজনের সাথে এমন নোংরামি এবং তার সম্পদ লুটে নেওয়ার কারণে এখন সমাজে আমাদের মুখ দেখানো দায় হয়ে পড়েছে।
সম্পদ আত্মসাৎ ও প্রতারণার এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর গাজীপুরের সচেতন নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় অধিবাসীদের মতে, যার মধ্যে ন্যূনতম নৈতিকতার ভিত্তি নেই এবং যে নিজের পরিবারের সদস্যের সাথে এমন জঘন্য প্রতারণা করতে পারে, তার কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অবিলম্বে এই প্রতারককে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ শাস্তির আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

