
আব্দুল্লাহ জোবায়ের (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে একটি অসহায় পরিবারের বাড়ি ঘরে হামলা ভাংচুর, পুকুরে চুবিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা, পিটিয়ে জখম এবং নারীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। গত ৫ আগস্ট বুধবার দুপুরে উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের মাইজহাটি গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন (২৩) বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন, একই গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে ইসরাফিল (৪৮) ও ওয়াহাব (৪৫), ওয়াহাবের ছেলে সজিব মিয়া (২৩) ও হাবীব মিয়া (২১)। বিবাদীরা বাদীর আপন চাচাতো ভাই ও ভাতিজা।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে জমি জমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বুধবার দুপুরে অনিচ্ছাকৃতভাবে ক্ষেতের একটি আইল ভেঙে যাওয়ায় জমির পানি ও কচুরিপানা প্রতিপক্ষের জমিতে প্রবেশ করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অভিযুক্তরা আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়।
হামলার সময় আনোয়ার হোসেন বাড়ির পুকুরে গোসল করছিলেন। তখন ইসরাফিলের নির্দেশে হাবীব মিয়া তাকে পুকুরের পানির নিচে চুবিয়ে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। আনোয়ারের ছোট ভাই নজরুল ইসলাম তাকে উদ্ধার করতে গেলে সজিব মিয়া তাকে মারধর করে আহত করে।
তার ডাক চিৎকারে আনোয়ারের ভাইয়ের স্ত্রী নাজমা খাতুন (২৭), স্বর্ণা আক্তার (২০) এবং মা আয়শা বেগম (৫৫) বাঁচাতে এগিয়ে এলে বিবাদীরা তাদেরকেও মারধর করে। হামলাকারীরা এসময় নারীদের শ্লীলতাহানি করে এবং ঘরবাড়ির আসবাবপত্র ও একটি অটোরিকশা ভাঙচুর করে। পরে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইসরাফিল ও ওয়াহাবের বক্তব্য জানার জন্য তাদের বাড়িতে গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যদের কাছে মোবাইল নম্বর চাইলেও তা পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ রবিউল আজম বলেন, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

