দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের উন্নয়নে ঐক্যের আহ্বান, তিন বছরেই বদলে যাবে চিত্র: এমপি বাচ্চু

প্রকাশিত: ৯:৩৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২৬

সফিউর রহমান সাকিব

দক্ষিণ গফরগাঁওকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও শিল্পায়নে সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে একটি আধুনিক উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। তাদের মতে, নতুন উপজেলা বাস্তবায়নের পর মাত্র পাঁচ মাসেই এলাকায় দৃশ্যমান উন্নয়নের সূচনা হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরে দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন আরও বেগবান হবে এবং এলাকার সার্বিক চিত্র পাল্টে যাবে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা ফোরাম’ আয়োজিত ‘দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের উন্নয়ন ও অগ্রগতি’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

একুশে টেলিভিশনের বার্তা প্রযোজক আনোয়ারুল কাইয়ুম কাজলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আশরাফ-উজ-জামান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও-দক্ষিণ গফরগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু।

এছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএপিএমইএ) সাবেক সভাপতি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন মতি, সাবেক সিনিয়র সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক প্রফেসর ড. সিরাজুল হক, যুগ্ম সচিব হেমায়েত হোসেন, তিতাস গ্যাসের সাবেক জেনারেল ম্যানেজার ফয়জুল বারী গোলাপ, সাবেক সহকারী পুলিশ সুপার হাম্মাদ হোসেন নয়ন এবং বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি ও ইউএনবির ডেপুটি এডিটর মাসউদুল হক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু বলেন, আগামী পাঁচ বছর নয়, তিন বছরের মধ্যেই গফরগাঁও ও দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের চিত্র বদলে যাবে। তিনি বলেন, একটি মানবিক, আধুনিক ও বাসযোগ্য জনপদ গড়ে তুলতে কোনো সময় নষ্ট না করে প্রতিদিন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি জানান, গফরগাঁও পৌরসভায় বর্তমানে ৩২ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। এর বাইরে আরও ১৮ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে, যা শিগগিরই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এমপি বাচ্চু বলেন, গফরগাঁও ও দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের জন্য পৃথক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত পাঁচ মাসে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রাস্তা পাকাকরণ, এইচবিবি ও ইট সোলিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বরাদ্দ শেষ হলেও যেসব এলাকায় মাটির রাস্তার দাবি এসেছে, সেসব স্থানে প্রাথমিক কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে পরবর্তীতে স্থায়ী উন্নয়ন সহজ হয়।

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক মাসের মধ্যেই দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা বাস্তবায়নের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করেছেন। তিনি বলেন, উপজেলা ভবনের জন্য নির্ধারিত স্থানটি উপযুক্ত এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

সাবেক সিনিয়র সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন বলেন, উপজেলা ভবনের স্থান নির্বাচন নিয়ে আঞ্চলিকতা বা ব্যক্তিগত আবেগ নয়, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, নয়াবাড়ী বা কান্দিপাড়ায় নির্ধারিত স্থানটি দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের অধিকাংশ মানুষের জন্য যৌক্তিক ও সুবিধাজনক হওয়ায় এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো উচিত।

বিজিএপিএমইএর সাবেক সভাপতি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন মতি বলেন, উপজেলা সদর থেকে প্রতিটি ইউনিয়ন ও গ্রামের সঙ্গে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে সাধারণ মানুষের সরকারি সেবা গ্রহণ আরও সহজ হবে

অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আশরাফ-উজ-জামান বলেন, দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের একটি জনদাবি পূরণ হয়েছে। এখন দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

মতবিনিময় সভায় বক্তারা আরও বলেন, দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার কার্যক্রম আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও জনবান্ধব উপজেলা গড়ে তুলতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তারা।

মন্তব্য করুন