
আব্দুল্লাহ জোবায়ের (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ঈশ্বরগঞ্জ ভুঞা ফিলিং স্টেশনের সামনে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে সিমেন্টের খুঁটি ও গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষুব্ধ জনতা অবরোধ করে। এ সময় সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন চালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুয়েল কার্ড ইস্যুর নামে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করে সাধারণ ক্রেতাদের হয়রানি করা হচ্ছে। এতে জরুরি সেবা থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য পর্যন্ত নানা খাতে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যুতের জরুরি সেবায় নিয়োজিত একজন কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের পুরো উপজেলাজুড়ে দিনরাত কাজ করতে হয়। কিন্তু পাম্পে এসে প্রয়োজনীয় পেট্রোল পাচ্ছি না। তেলের অভাবে আমাদের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে, অথচ প্রশাসনের এদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।
স্থানীয় ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও উদ্যোক্তাদের একটি বড় অংশ এই জটিল শর্তের কারণে জ্বালানি সংকটে পড়েছেন। তিনি শর্ত শিথিল করে সবার জন্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এদিকে ভুঞা ফিলিং স্টেশনের মালিক মঞ্জুরুল হক ভুঞা বলেন, আমাদের পাম্পে ৯ হাজার লিটার পেট্রোল, ৩ হাজার লিটার অকটেন এবং প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার লিটার ডিজেল মজুত রয়েছে। জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। কেবল প্রশাসনিক নির্দেশনা না থাকার কারণেই তারা জন সাধারণের কাছে তেল বিক্রি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।
খবর পেয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ রবিউল আজম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি উপস্থিত জনতাকে আশ্বস্ত করে জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বিকেল ৪টা থেকে ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ শুরু করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আগাম মাইকিং ও জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পরে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নিলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তিনি আরো বলেন, আগে থেকেই মাইকিং করে বিষয়টি জানানো হলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।

