
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে। ইতোমধ্যে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ অবস্থার রিপোর্ট প্রতিবেদন আদালতে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। এর আগে মেডিকেল রিপোর্ট না পৌঁছায় গত তারিখে শুনানি হয়নি। এদিকে শুনানিকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়া ছাড়া কাউকে ভিতরেপ্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
এর আগে গতকাল বুধবার বিকাল সোয়া ৪টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়ার মেডিকেল রিপোর্টটি সিলগালা অবস্থায় সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে পৌঁছে দিয়েছে। বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জামিন শুনানিতে এ রিপোর্ট উপস্থাপন করা হবে।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার জামিন শুনানিতে গত ২৮ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদন দিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়ে শুনানির জন্য ৫ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন। ওই দিন মেডিকেল রিপোর্ট জমা না রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ ১২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার নতুন তারিখ ধার্য করেন আদালত।
আলোচিত যে দুটি মামলায় বিএনপি নেত্রী কারাবন্দি হয়েছেন সেগুলো হলো ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’ এবং ‘জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’ দুর্নীতি মামলা। পৃথক দুটি মামলায় তিনি ১০ বছর ও ৭ বছর করে মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে কারাভোগ করছেন। কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে মোট ৩৭টি মামলা রয়েছে। এরমধ্যে ৩৫টি মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন।
এরমধ্যে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় চলতি বছরের ১৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিবেচনার দাবিতে খালেদা জিয়ার পক্ষে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। ১৭ নভেম্বর এ আবেদন উপস্থাপনের পর আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান শুনানির জন্য ২৫ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর ২৮ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি হয়। এদিন পাঁচ বিচার বিচারপতি শুনানিতে অংশ নেন। পরে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ অবস্থার প্রতিবেদন চেয়ে আজ ৫ ডিসেম্বর রায় শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন আদালত।
শুনানিকে ঘিরে সুপ্রিমকোর্টে ঢোকার প্রবেশপথগুলোয় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া মৎস্য ভবন, প্রেস ক্লাব এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব, আর্মড পুলিশ। এসব এলাকায় পথচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সুপ্রিমকোর্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক অবস্থান এলাকায় দেখা যায়। আদালতের সেবাপ্রত্যাশী, আইনজীবী, ও আদালতে কর্মরতদেরও তল্লাশির মাধ্যমে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে।
এর বাইরে পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। ব্যাগধারীদের ব্যাগ, লাগেজ কিংবা নারীদের পার্সও তল্লাশি করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুনানিতে আদালতে উভয়পক্ষের ৩০জন করে আইনজীবি উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
আলোচিত এই মামলায় জামিন পেলে একই আদেশ বিবেচনায় অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাও জামিন পাবেন বেগম জিয়া। ফলে চলমান সবগুলো মামলায় তার জামিন হবে। সেক্ষেত্রে নতুন কোনো মামলা, গ্রেফতারি পরোয়ানা বা আটকাদেশ না হলে জামিনে মুক্ত হতে আইনি কোনো বাধা থাকবে না তার।
বিএনপি নেতা-কর্মীদের চোখ এখন খালেদা জিয়ার জামিনে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সারাদেশের মানুষের চোখ আদালতের দিকে। সর্বশেষ মানবিক দৃষ্টিকোণে থেকে জামিন আবেদনে আদালত সাড়া দেয় কিনা। চূড়ান্ত রায়ে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ৭ বিচারকের পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ কী রায় দেন সেদিকেই দৃষ্টি এখন গণমাধ্যমকর্মীদেরও।
প্রসঙ্গ, গত বছরের (২০১৮) ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। পরে ওই বছরের ৩০ অক্টোবর খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। সেই সাথে প্রত্যেক আসামীকে ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা অর্থদণ্ড দেন আদালত।
একই বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট (চলমান জামিন আবেদন) মামলায় ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে সাজা ঘোষণা করেন রাজধানীর নাজিম উদ্দিন রোডে পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আখতারুজ্জামান।
/এসএস