
আজ থেকে আট মাসে আগে পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় কেমিক্যাল গোডাউনে আগুন লেগেছিল। কেমিক্যাল গোডাউনে লাগা এ আগুনে নারী ও শিশুসহ ৭১ জন মানুষ পুড়ে অঙ্গার হয়ে যান। অনেকেরই পরিচয় জানতে হয়েছে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে। সেই ঘটনার তদন্ত শেষ হয়নি আজও। গোডাউন মালিকের খোঁজও পাননি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। গ্রেফতারও হননি কেউ। ওই ভবনে থাকা অন্য কেমিক্যাল গোডাউন মালিকদেরও নাম-পরিচয় সম্পর্কে সঠিক কোনও তথ্য পাননি তারা।
জানা গেছে, আগুনের ঘটনার পর ওয়াহেদ ম্যানশন নামের ভবনটির মালিক দুই সহোদর মো. হাসান (৫০) ও মো. সোহেল (৪৫) আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, নানা সীমাবদ্ধতার কারণে তদন্ত শেষ করা যায়নি এখনও। কবে নাগাদ শেষ হবে তা সঠিকভাবে বলতে পারেননি তারা। চুড়িহাট্টার স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ঘটনার পর ওই ভবনের মালিক দুই সহোদর হাসান ও সোহেল দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। জামিনে বেরিয়ে এসে বর্তমানে প্রকাশ্যে রয়েছেন তারা।
ভয়াবহ এই আগুনের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কবির হোসেন হাওলাদার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘চুড়িহাট্টার ঘটনাটি নিয়ে আমাদের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। মামলার পরপরই ওয়াহেদ ম্যানশনের মালিকদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল। এছাড়া, বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ করে সেই অনুযায়ী তদন্ত হচ্ছে।’
চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনার তদন্তে ফায়ার সার্ভিস, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিস্ফোরক পরিদফতর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন—এই পাঁচটি সংস্থার পাঁচটি তদন্ত কমিটি কাজ করে। মাঠপর্যায়ে সরেজমিনে ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে এবং ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত বিচার বিশ্লেষণের পর কমিটিগুলো তদন্ত প্রতিবেদনও তৈরি করে। তবে সব প্রতিবেদনেই আগুনের সূত্রপাত ওয়াহেদ ম্যানশনের দোতলার কেমিক্যাল গোডাউন থেকে হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়।
মামলার বাদী মো. আসিফ বলেন, ‘চুড়িহাট্টার ঘটনায় আমার বাবা মারা গেছেন। কিন্তু এই আগুনের জন্য যারা দোষী, পুলিশ তাদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। ওয়াহিদ ম্যানশনের মালিক দুই ভাইকেও গ্রেফতার করেনি। তারা পলাতক থাকার পর আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়ে এসেছেন। বর্তমানে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আমি তাদের বিচার চাই।’
আই.এ/