
ব্লাসফেমি আইন পাশ এবং ভোলায় বর্বরোচিত হত্যাকান্ডে জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ লক্ষ্মীপুর জেলার নেতৃবৃন্দ।
আজ ২৫ অক্টোবর ২০১৯ শুক্রবার, বিকেল ২ টায় লক্ষ্মীপুর চকমসজিদ চত্বরে মহানবী সা.-কে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি এবং ভোলার বোরহান উদ্দিনে আন্দোলনরত মুসল্লিদের হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশ থেকে এ দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।
সংগঠনের জেলা সভাপতি অনারারি ক্যাপ্টেন অবঃ মুহা. ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মাও: দেলাওয়ার হোসাইন, সেক্রেটারি মাও: মহিউদ্দিন, জয়েন্ট সেক্রেটারি মাও: আহম নোমান সিরাজি, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ লোকমান হোসাইন, প্রচার সম্পাদক ইমরান হোসাইন, শ্রমিক নেতা মাও: মাহবুবুর রহমান, যুব নেতা মুফতি আশরাফুল ইসলাম, ছাত্র নেতা মুহা. নুরুল আলম প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে অনারারি ক্যাপ্টেন অবঃ মুহা. ইব্রাহিম বলেন, ধর্মীয় অনুভুূতি সুরক্ষায় কোন আইন না থাকার কারনে ধর্ম বিদ্বেষীরা ইসলাম ও রাসুল সাঃ কে নিয়ে কুটুক্তি করার দুঃসাহস দেখাচ্ছে । এদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও আলেম ওলামারা বারবার ব্লাসফেমী আইন করার দাবি জানিয়ে আসলেও সরকার এতে কর্ণপাত করছেনা। ফলে ইসলাম বিদ্বেষী শক্তি একের পর আল্লাহ, রাসুল (সা.) ও ইসলামের বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়ে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে যাচ্ছে। তাই ধর্ম অবমাননা রোধে অবিলম্বে ব্লাসফেমী আইন পাশ করে বিপ্লব চন্দ্রকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড দিতে হবে।
অন্যান্যরা বলেন, প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করা জনগনের মৌলিক অধিকার। কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব এড়ানো, দায়িত্ব অবহেলা এবং নিষ্ক্রিয়তা জনগনের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি করে। ক্ষুব্ধ জনতা দুএকটি ইটপাটকেল ছুড়বে এটা গনতান্ত্রিক আন্দোলনের চিরায়ত রুপ।সরকারও এজন্য দায়ী। কিন্তু এর ফলে কোন বাচবিচার ছাড়াই জনতার উপর গুলি চালিয়ে হত্যা করা আইন ও পুলিশের ভাষা হতে পারে না। এভাবে ৪ জন নবীপ্রেমিককে গুলি করে হত্যা ও শতাধিক মানুষকে আহত করা স্বাধারণ কোন ঘটনা নয় বরং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির পরিকল্পনা হতে পারে বলে নেতৃবৃন্দ আশংকা প্রকাশ করেন।
নেতৃবৃন্দ আশংকা প্রকাশ করে বলেন- দীর্ঘদিন থেকে একটি শ্রেণী ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছে। যখনি বিক্ষুব্ধ জনতা এর প্রতিবাদ করে তখনি তাদের উপর গুলি বর্ষণ করে পরিস্থিতি আরো জটিল করে তোলা হয়। এ দুয়ের মাঝে যোগসাজশ আছে বলে নেতৃবৃন্দ মনে করেন। নেতৃবৃন্দ বিপ্লব চন্দ্রসহ সকল কটুক্তিকারীর শাস্তি ও গুলি চালানোর হুকুমদাতাদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
সমাবেশের পূর্বে এক বিশাল মিছিল মারকাজ মসজিদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চকমসজিদ চত্বরে গিয়ে দোআ ও মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়।
/এসএস