
পারভেজ হোসেন, রামগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর: জরাজীর্ণ ভবন। পুরনো বিল্ডিং। ইট খসে খসে পড়ছে। দেখতেও একেবারে ভঙ্গুর অবস্থা। যেকোনো সময় ধ্বসে পড়ে ঘটতে পারে দূর্ঘটনা। এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। সরেজমিনে ঘুরে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ১০নং ভাটরা ইউনিয়নস্থ ‘ভাটরা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা’য় এমন চিত্র দেখা গেছে।
মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা গোলাম মোস্তফার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয় প্রায় ১৯৮৫ সালের আগে। তিনি বলেন, ‘আমি আসার পর মক্তবের মত ছোট্ট একটি ঘর ছিল। নতুন একটি ভবন হয়েছে প্রায় ৬৭ লাখ টাকা ব্যায়ে। কিন্তু ৫ তলা ফাউন্ডেশন হলেও মাত্র একতলা করা হয়েছে। ফলে পর্যাপ্ত ভবন না থাকায় জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হচ্ছে না’। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই ভবনের উপরে আপাতত আরো একটি ভবন আমাদের খুবই প্রয়োজন।
মাদরাসার সহকারি শিক্ষক মাওলানা মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্নের পর থেকে এখনো পর্যন্ত মাদরাসার মূল ভবনটি দাঁড়িয়ে কোনোরকমে। বৃষ্টির সময় হলে ভবনের ভিতরে অধিক পরিমাণে পানি পড়ে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পাখা নেই, নেই বৈদ্যুতিক বাতিও। বৃষ্টির সময় আকাশ কালো হলে রাতের অন্ধকারের মতো শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করতে হয়।
মাদরাসার শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা এই মাদরাসার ভবনটির পূর্ণ সংস্কার চাই। পর্যাপ্ত পরিমাণ ভবন না থাকায় আমাদের পড়াশোনা করতে সমস্যা হচ্ছে। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগন বিষয়টি আমলে নিবেন।
মাদরাসার গভর্নিং বোর্ডের সভাপতি ম.হ.ম আলী কবীর মামুন জানান, মাদরাসার ভবনের উন্নয়নের জন্য গত কয়েকদিন আগে ইঞ্জিনিয়ার এসে মাদরাসার জরাজীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন পরিদর্শন করেছেন। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করছি।আশা করছি এর একটা সমাধান হবে।
ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবুল হোসেন মিটু বলেন, আমি সরজমিনে ঘুরে দেখেছি মাদরাসাটি খুবই জরাজীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ। ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় (৫ পাঁচ) লক্ষ টাকা ব্যয় করে মাদরাসার নতুন একটি ভবন নির্মাণ করেছি। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটা নিয়ে আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা করেছি। উপজেলা নির্বাহি অফিসার ও প্রকৌশলীর সাথে আমরা আলোচনা করব, যেন খুব দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি পূর্ণ সংস্কার হয়। এই মাদরাসায় দাখিল পরীক্ষার কেন্দ্র করার ব্যাপারেও আমরা ভাবছি।
/এসএস