
এ বছরের শুরুর দিকে আলোচিত চট্টগ্রামের ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশের আত্মহত্যার ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া স্ত্রী ডা. তানজিলা হক চৌধুরী মিতুকে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। গতকাল বুধবার বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ মিতুর জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালতে মিতুর জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল গিয়াস উদ্দিন আহমেদ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মির্জা মো. সোয়েব মুহিত।
এছরের শুরুর দিকে জানুয়ারি শেষ দিন অর্থাৎ ৩১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার দুই নম্বর সড়কের ২০ নম্বর বাড়িতে নিজ বাসা থেকে ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশের লাশ উদ্ধার করা হয়। আকাশ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বাংলাবাজার বরকল এলাকার মৃত আব্দুস সবুরের ছেলে। তিনি এমবিবিএস শেষ করে এফসিপিএস পড়ছিলেন।
পরকীয়ায় জড়িত স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে, চরম আকারে মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েন এবং ইনসুলিনের সাহায্যে তিনি আত্মহত্যার পথ বেচে নেন। আত্মহননের আগে ডা. আকাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের টাইমলাইনে স্ট্যাটাসে স্ত্রী তানজিলা হকের পরকীয়ার ঘটনা তুলে ধরে বিভিন্ন পুরুষের সাথে তার অন্তরঙ্গ ছবি ও একাধিক পুরুষের সাথে হোটেলে রাত কাটানোর স্বীকরোক্তিসহ ভিডিও দিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির ঘটনাবলি তুলে ধরেন।
ওই স্টাটাসের পর আকাশ আরো একটি স্টাটাস দেন ফেসবুকে। তার শেষ স্ট্যাটাস ছিল ‘ভাল থেক আমার ভালবাসা তোমার প্রেমিকদের নিয়ে’। যা ডা. আকাশের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
১ ফেব্রুয়ারি আকাশের মা জোবেদা বেগম চান্দগাঁও থানায় মামলা করেন। পরে ওইদিনই নগরীর নন্দনকানন এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসা থেকে তানজিলা হক চৌধুরী মিতুকে আটক করে নগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের একটি দল। ওই মামলায় জেলহাজেতে থাকার প্রায় ৭ মাস পর গতকাল বুধবার আদালতে জামিন পান মিতু।
স্ত্রীর পরকীয়া, পর পুরুষের সাথে শারীরিক সম্পর্কের জেরে লজ্জায় অভিমান করে আত্মহত্যা করেন তরুণ চিকিৎসক ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশ। আত্মহত্যার আগে আকাশ ফেসবুকে স্ত্রীকে নিয়ে আবেগঘন স্টাটাস দেন। স্টাটাসে আকাশ- একধিক পুরুষের সাথে স্ত্রীর কিছু অন্তরঙ্গ ফটো শেয়ার করেন। আকাশের দেয়া সেই স্টাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
আমার সাথে তানজিলা হক চৌধূরী মিতুর ২০০৯ সাল থেকে পরিচয় প্রচন্ড ভালোবাসি ওকে। ও নিজেও আমাকে অনেক ভালোবাসে। আমরা ঘুরে বেড়াই , প্রেম করে বেড়াই। আমাদের ভালোবাসা কম বেশি সবাই জানে। অনেকে বউ পাগলাও ডাকত।
২০১৬ তে আমাদের বিয়ে হয় বিয়ের কয়েকদিন আগে জানতে পারি কিছুদিন আগে শোভন নামে চুয়েটের ০৮ ব্যচের এক ছেলের সাথে ও হোটেলে রাত কাটায় আর কত কি লজ্জা লাগছে সব লিখতে।
ততদিনে সবাইকে বিয়ের দাওয়াত দেওয়া শেষ আমাকে যেহেতু চট্রগ্রামের সবাই চিনে তাই বিয়ে ক্যান্সেল করতে পারিনি লজ্জাতে। ওর মোবাইল এ দেখি ভাইবারে দেখতে পাই মাহবুব নামে কুমিল্লা মেডিকেলের ব্যচম্যটের সাথে হোটেলে সেক্সের ছবি শতশত ছবি। আমিতো বেচে থেকেও মৃত হয়ে গেলাম।
তারপর ক্ষমা চাইল শবে কদরের রাতে কান্না করে পা ধরে আর কখনো এমন হবে না। আমিও ক্ষমা করে দিয়ে ১বছর ভালভাবেই সংসার করলাম। তারপর ও দেশের বাইরে আমেরিকা গেল মাঝখানে একবার ঈদ পালন করতে আসল। সেপ্টেম্বরে ২০১৮ সালে আবার চলে গেল ইউএসএমএলই এর প্রিপারেশন নিচ্ছিল। সাথে ফেব্রুয়ারীতে ২০১৯ এ আমার ইউএস এ যাওয়ার কথা।
জানুয়ারী ২০১৯ জানতে পারি ও রিগুলার ক্লাবে যাচ্ছে মদ খাচ্চে প্যটেল নামে এক ছেলের সাথে রাত কাটাচ্ছে। আমি বারবার বলছি আমাকে ভালো না লাগলে ছেড়ে দাও কিন্তু চিট কর না মিথ্যা বলো না। আমার ভালোবাসা সবসময় ওর জন্য ১০০% ছিলো। আমি আর সহ্য করতে পারিনি।
আমাদের দেশেতো ভালবাসায় চিটিং এর শাস্তি নেই। তাই আমিই বিচার করলাম আর আমি চির শান্তির পথ বেচে নিলাম। তোমাদেরও বলছি কাউকে আর ভালো না লাগলে সুন্দর ভাবে আলাদা হয়ে যাও চিট করো না মিথ্যা বলো না।আমি জানি অনেকে বিশ্বাস করবে না এত অমায়িক মেয়ে…! আমিও এসব দেখে ভালোবেসেছিলাম। ভিতর বাহির যদি এক হত। সবাই আমার দোষ দিবে সবকিছুর জন্য তাই ব্যখ্যা করলাম।
আমার শাশুড়ী এর জন্য দায়ী। এসবের জন্য, মেয়েকে আধুনিক বানাচ্ছে। একটু বেশি বানিয়ে ফেলেছে। উনি চাইলে এখনো সমাধান হত।
ও মা তুমি মাফ করে দিও তোমার স্বপ্ন পূরন করতে পারলাম না। মায়ের ভালোবাসার কখনো তুলনা চলে না। বারবার বলছি ভালো না লাগলে আলাদা হয় যাও চিট করো না, মিথ্যা বলো না বিশ্বাস ভাঙ্গিও না।
হাজার হাজার ছবি আছে আরো খারাপ খারাপ দিলাম না যারা বিলিভ করবে এতেই করবে , না করলে নাই। এই ৯ বছরে বয়ফ্রেনড স্বামী স্ত্রীর মত আবার সাথে সবি করে গেল। ও আমাকে আর কি ভালোবাসলো ? কিসের বিয়ে করলো?।
আমি শেষ পর্যন্ত চাইছি সব চুপ রেখে সমাধান করে অকে নিয়ে থাকতে। আমার শশুড় আর শাশুড়ী কে বারবার বলছি উনারা সমাধান করতে পারত! আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী আমার বউ। ৯ টা বছর যাকে ১০০% ভালবাসছি। ওকে প্ররোচণা দিয়েছে মইন মিথি নামে দুই ফ্রেন্ড। ওর মা বাবা আমাকে মানসিক কষ্ট দিয়ে মারছে।
আমি এই বেইমানি মেনে নিতে পারিনাই। তারপর ও ভুলে আমি সুন্দর সংসার করতে চাইছি আমার শাশুড়ি শশুড় আর বউ নামের কলংক করতে দিলনাআমাকে প্রতি নিয়ত প্রেশার দিয়ে গেছে আমার বউ আমার মার নামে যা তা যা তা বলে গেছে।
আমাকে ভালো না লাগ্লে ছেড়ে চলে যাইতে বলছি ১০০ বার। আমি বোকা ছিলাম তুমি সুখে থেকো। অনেকে ওর ফ্যান বিলিভ করবে না আমি জানি তবে এটাই সঠিক মরার আগে কেউ মিথ্যা বলে না আর বাইরে থেকে মানুষের ভিতরের চেহারা বুঝা যায় না।
ও সুন্দরী, পড়াই ভাল, গান পাড়ে সত্য কিন্তু ও ভালো অভিনেত্রী ভালো চিটার। যাদের ইচ্ছা বিলিভ করবে যাদের ঈচ্ছা নাই করবে না। তবে কাউকে ভালোবেসে চিটার গিরি করো না।
Mustafa Murshed Akash এর টাইমলাইন থেকে (বানান সংশোধনীসহ)
/এসএস