
সাঈদ কাদির:
উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রামের সর্বশেষ দু'টি থানা-- চিলমারি ও রাজিবপুর। ব্রম্মপুত্র নদের এইপারে চিলমারি। ওপারে রাজিবপুর। চিলমারী'র উত্তর বজ্রা, ঠকেরহাট ও জোরগাছসহ নদীপাড়ের মানুষদের ঘরের ভিতরে পানি হয়েছিল গড়ে তিনফিট। ফল ও ফসল বন্যার পানিতে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। অনেকের ঘরবাড়ি ভেঙ্গে গেছে। সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে অগণিত মানুষ।
চিলমারীর চর ও রাজিবপুরের অবস্থা হয়েছিল আরো ভয়াবহ। আমরা আগের থেকে চিলমারীর কয়েকটা চরের খোঁজখবর নিয়ে রেখেছিলাম। জানতে পেরেছিলাম চরবাসীর দুর্দশাগ্রস্ততার খবর। ট্রলারযোগে ত্রিশ কিলোমিটার পানিপথ অতিক্রম করে গেলাম শিকারপুর চরে। ট্রলার থামাতেই কিছু বৃদ্ধ-বৃদ্ধার দিকে চোখ পড়ল! তারা আমাদের অপেক্ষায় সেখানে বসে আছেন। তাদের চোখমুখ দেখে বোঝা যাচ্ছিল, একান্ত দায় ঠেকেই তারা এখানে এসেছেন। নচেৎ সাধারণ প্রয়োজনে তারা মানুষের কাছে হাত পাতার মতো লোক নন। কিছু বিধবা, পঙ্গু ও পাগলীকে দেখে চোখের পানি আটকানো যাচ্ছিল না। জীর্ণশীর্ণ কিছু বালকবালিকারাও এসেছিল কাঁদোকাঁদো চেহারায়। দৃশ্যটা ঠিক কেমন ছিল-- লিখে বোঝানো দায়! এসব দৃশ্য কেবল চোখে দেখা যায়! তাঁদের দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থার সঠিক চিত্র ক্যামেরার ক্লিক বা লেখার হরফে উঠিয়ে আনা সম্ভব নয়।

পুনশ্চ: গতকাল সোমবার (০৫ আগস্ট) আমরা সারাদিন ত্রাণসামগ্রী বিতরণের কাজ করেছি আলহামদু লিল্লাহ। ২২৫০ পরিবারকে খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেট সরবরাহ করেছে কোনাবাড়ী উলামা পরিষদ। ক্ষতিগ্রস্ত কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবারকে নগদ অর্থও প্রদান করা হয়েছে। সবমিলিয়ে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা সমপরিমাণের ত্রাণকার্য্য পরিচালনা করা হয়েছে কোনাবাড়ী উলামা পরিষদের উদ্যোগে। আমাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন কোনাবাড়ী এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণ।
/এসএস