
রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার তার স্ত্রী ও মামলার প্রধান সাক্ষী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহার এবং তার চিকিৎসার আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী এ আবেদন নামঞ্জুর করেন।
এর আগে ১৬৪ ধারায় দেওয়া মিন্নির জবানবন্দি প্রত্যাহারের জন্য তাকে আদালতে তলবের আবেদন করেন তার আইনজীবী ও বরগুনা জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুবুল বারি আসলাম। এ সময় মিন্নি অসুস্থ বলে তাকে উপযুক্ত চিকিৎসা দেয়ার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর আবেদনও করেন তার আইনজীবী। বিচারক দুটি আবেদনই নামঞ্জুর করেন। গত ২১ জুলাই মিন্নির জামিন আবেদন করা হয়। সেই আবেদনও খারিজ করে দিয়েছিল আদালত।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির জানান, রিফাত শরীফ হত্যা মামলার ১ নম্বর সাক্ষী ও প্রত্যক্ষদর্শী মিন্নি। তার বক্তব্য রেকর্ড ও তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বরগুনা পুলিশ লাইনে আনা হয়। রাতে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে তার কথাবার্তায় সন্দেহ হয় পুলিশের।
তিনি জানান, নয়ন বন্ডের বাড়িতে বসেই স্বামী রিফাতকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মিন্নি- করেছেন। হুমায়ুন কবির বলেন, নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজীর সঙ্গে মিন্নি পরিকল্পিতভাবে রিফাতকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
এদিকে মিন্নির বাবা অভিযোগ করছেন, তার মেয়ের কাছ থেকে জোর করে জবানবন্দী নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জেলখানায় যখন আমি কথা বলতে গেছি তখন মেয়েটা আমার কান্নায় ভেঙে পড়ে। সে বলেছে, ‘বাবা পুলিশ আমাকে যা শিখিয়ে দিয়েছে তাই বলেছি। আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। স্বামীকে আমি কেন খুন করাতে যাব।’
উল্লেখ্য, বুধবার (২৬ জুন) সকালে নয়ন তার দুই সহযোগীকে নিয়ে রিফাতের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করে। এ মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।
আইএ/পাবলিক ভয়েস