স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প অনুমোদন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সচিবের স্বাক্ষর ছাড়া ফাইল পাসের অভিযোগ এবং ৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে অনিয়মের দাবি ঘিরে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এখন প্রকাশ্য মুখোমুখি অবস্থানে।
শনিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সচিবের স্বাক্ষর ছাড়াই ফাইল অনুমোদন দিয়েছেন। তার দাবি, এটি প্রচলিত প্রশাসনিক বিধি, রুলস অব প্রসিডিওর এবং রুলস অব বিজনেসের পরিপন্থী। তিনি বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে এবং বিস্তারিত অনুসন্ধানে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।
একই ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও গুরুতর অভিযোগ তোলেন পিরোজপুর জেলার একটি উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই প্রকল্পে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বাস্তবে কোনো কাজ না করেই প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এ ধরনের অনিয়মের কারণে গত দুই বছর ধরে জেলার বেশিরভাগ উন্নয়ন প্রকল্প কার্যত বন্ধ হয়ে আছে বলেও তিনি দাবি করেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, শিগগিরই সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রকল্পগুলোর বাস্তব অবস্থা যাচাই এবং পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রীর এসব বক্তব্য প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানান সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে তিনি অভিযোগটি সরাসরি অস্বীকার করেন। তার দাবি, সচিবের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো ফাইল মন্ত্রী বা উপদেষ্টার টেবিলে পৌঁছানো প্রশাসনিক কাঠামো অনুযায়ী সম্ভব নয়। তিনি বলেন, একটি প্রকল্প অনুমোদনের আগে ফাইল একাধিক স্তর পেরিয়ে আসে এবং সেখানে সচিব বা দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিবের অনুমোদন বাধ্যতামূলক।
আসিফ মাহমুদ আরও ব্যাখ্যা করেন, সচিব বিদেশে অবস্থান করলে বা অনুপস্থিত থাকলে অতিরিক্ত সচিব দায়িত্ব পালন করেন এবং তার স্বাক্ষরের ভিত্তিতেই ফাইল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ফলে সচিবের স্বাক্ষর ছাড়া ফাইল অনুমোদনের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা প্রশাসনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগের জবাবে তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন প্রতিমন্ত্রীর উদ্দেশে। আসিফ মাহমুদের বক্তব্য, যে ফাইলের কথা বলা হচ্ছে, সেটি জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে এবং সেখানে তার স্বাক্ষর ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার স্পষ্ট প্রমাণ দেখাতে হবে। তার মতে, প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের অভিযোগকে তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বিবেচনা করবেন।
এদিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘদিনের প্রকল্প বাস্তবায়ন, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে যে প্রশ্ন রয়েছে, নতুন এই বিতর্ক তা আরও সামনে নিয়ে এসেছে। একদিকে প্রতিমন্ত্রীর অভিযোগ, অন্যদিকে সাবেক উপদেষ্টার পাল্টা ব্যাখ্যা ও চ্যালেঞ্জ, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন প্রমাণ ও নথিপত্রের ওপর নির্ভরশীল এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
সবশেষে এখন সবার নজর সেই কথিত প্রকল্প ফাইলের দিকে। সেই ফাইল আদৌ প্রকাশ করা হবে কি না, কিংবা অভিযোগের পক্ষে কোনো নথি সামনে আসে কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে এই বিতর্কের পরবর্তী মোড়।