এম সালমান আহমদ সুজন, তাহিরপুর প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে একটি নির্মাণাধীন তিনতলা ভবনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিমুল মিয়া (২১) নামে আরও এক নির্মাণশ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কামড়াবন্দ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস সংলগ্ন কামড়াবন্দ গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম এহসানুল হক (১৮)। তিনি উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের শিমুলতলা চন্দ্রপুর গ্রামের আলী রহমানের ছেলে। এহসানুল এবার বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন। আহত শিমুল মিয়া একই এলাকার তাজুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কামড়াবন্দ গ্রামে সাজুল তালুকদারের একটি নির্মাণাধীন তিনতলা ভবনের ছাদে কাজ করছিলেন এহসানুল ও শিমুল। এ সময় অসাবধানতাবশত তারা ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়া ১১ হাজার ভোল্টের প্রধান বিদ্যুৎ লাইনের সংস্পর্শে আসেন। এতে ঘটনাস্থলেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এহসানুলের মৃত্যু হয় এবং শিমুল গুরুতর আহত হন।
সন্তানের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন মা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন:
"গতকালই ছেলে এসএসসি পরীক্ষা শেষ করেছে। আমাদের কাউকে কিছু না জানিয়ে ঈদের খরচ জোগাতে সে কাজে গিয়েছিল। বিদ্যুৎ কেড়ে নিল আমার ছেলের প্রাণ। আপনারা আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দিন।"
তাহিরপুর সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) মো. আলাউল হক সরকার জানান, ভবন মালিক ও ঠিকাদারকে একাধিকবার বিদ্যুৎ নিরাপত্তার জন্য আবেদন করতে এবং প্রয়োজনীয় ফি জমা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা বিষয়টি আমল নেননি। বিদ্যুৎ লাইনের পাশে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে যেসব নিরাপত্তা বিধি অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক, তা এখানে পুরোপুরি উপেক্ষিত হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে ভবনের মালিক সাজুল তালুকদারের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, "মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।"